চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার পলাতক আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকা থেকে র্যাব সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামির নাম আলীরাজ হাসান ওরফে সাগর (২৮)। তিনি জঙ্গল সলিমপুর এলাকার মৃত রহমত আলীর ছেলে। সাগর র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম।
র্যাব-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, র্যাবের উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যা মামলার আসামি আলীরাজ হাসান ওরফে সাগর কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আজ রোববার সকালে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মাহিনুল ইসলাম জানান, র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার পলাতক আসামিকে আজ সকালে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সাগর র্যাব হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি। তাঁকে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি মাহিনুল ইসলাম আরও জানান, গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে র্যাব-৭-এর একটি আভিযানিক দল মেজর জালিস মাহমুদ খানের নেতৃত্বে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায়। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ দুষ্কৃতকারী র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে র্যাবের চার সদস্য গুরুতর আহত হন।
মাহিনুল ইসলাম জানান, থানা-পুলিশের সহযোগিতায় আহত র্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা জানান, নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া মারা গেছেন। অপর তিনজন বর্তমানে চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি জানান, হামলার ঘটনার দিন পুলিশ নুরুল ইসলাম মনা নামের একজনকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার দুই দিন পর গত বৃহস্পতিবার র্যাবের এক উপসহকারী পরিচালক বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় মো. ইয়াসিন, নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনকে সুনির্দিষ্ট আসামি করার পাশাপাশি ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহিদ, ইউনুস ও আরিফ নামের তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে জাহিদ ও ইউনুস মামলার এজাহারনামীয় আসামি। আরিফ তদন্তে পাওয়া আসামি। এরপর গত শুক্রবার বিকেলে জঙ্গল সলিমপুরের তৃণমূল এলাকায় অভিযান চালিয়ে কালা বাচ্চু ওরফে কালু নামের আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।