হোম > সারা দেশ > ঢাকা

পদ্মার ৩০ ফুট গভীরে বাসটি শনাক্ত, ৪ জনের মৃত্যু ও নিখোঁজ প্রায় অর্ধশত

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি  

ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া বাসটি প্রায় ৩০ ফুট গভীরে শনাক্ত করেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে নদীর তীব্র স্রোত ও অন্ধকারের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা সিভিল সার্জন ও হাসপাতাল সূত্র চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া ১১ জন সাঁতরে তীরে উঠেছেন।

আজ বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পন্টুনে অপেক্ষমাণ ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে ৫০ থেকে ৫৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহত ও আহতদের পরিচয়

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আহত অবস্থায় কয়েকজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে দুজনের মৃত্যু হয়। পরে নদী থেকে আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে শনাক্ত হওয়া নিহত ব্যক্তিরা হলো—কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মৃত কাশেম আলীর ছেলে আব্দুর রহমান (৪৫), একই এলাকার মো. ফারুক হোসেনের স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩২), রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাসিন্দা সাজেদা খাতুন (৫০) ও ইমন (১২) নামের এক কিশোর।

আহত অবস্থায় গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে কামাল হোসেন (৩৮), সুমি আক্তার (২৫), বিপ্লব মণ্ডল (৪০), শিশু রাফিসহ (৭) অজ্ঞাতনামা আরও তিনজন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে দুর্ঘটনা

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাটসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে যাত্রী নিয়ে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বিকেল ৫টার কিছু পরে বাসটি দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ঘাটে পৌঁছায়। একটি ফেরি ছেড়ে যাওয়ায় পরবর্তী ফেরির জন্য বাসটি পন্টুনে অপেক্ষা করছিল। এমন সময় ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি ভেড়ার সময় পন্টুনে সজোরে আঘাত করে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি মুহূর্তেই যাত্রীসহ গভীর পদ্মায় তলিয়ে যায়।

ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘চোখের সামনে বাসটি তলিয়ে গেল। আমরা কিছুই করতে পারলাম না। বাসের ভেতরে থাকা অধিকাংশ যাত্রীই বের হতে পারেননি।’

বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের ভাষ্য

দুর্ঘটনার পর বাসটি তলিয়ে যাওয়ার শুরুতে পাঁচ থেকে সাতজন যাত্রী কোনোমতে জানালা বা দরজা দিয়ে বের হয়ে সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হন।

উদ্ধার অভিযান ও সর্বশেষ পরিস্থিতি

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বাসটি নদীপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেছে। খবর পেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গোয়ালন্দ ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট ও আরিচা ফায়ার স্টেশনের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে যোগ দিতে ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরও দুটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গেছে। বর্তমানে ১৫–২০ জন ডুবুরির সমন্বয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

এ ছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি, নৌ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।

স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার এজিএম সালাঊদ্দিন জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সহযোগিতায় বাসটি টেনে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল জানান, বাসে থাকা যাত্রীদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে সেটি ৫০ থেকে ৫৫ জনের মধ্যে হতে পারে।

অন্ধকার ও পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে নিমজ্জিত বাসটি এখনো টেনে তোলা সম্ভব না হওয়ায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো ঘাট এলাকায় এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম: পাহাড়ে চাঁদাবাজির মচ্ছব

ভোলা সদর হাসপাতাল: বাড়তি খরচে নাকাল রোগী

একসঙ্গে লাশের তিনটি খাটিয়া, কাঁদছে পরিবার

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী: অস্তিত্ব সংকটে ছোট যমুনা এখন ভাগাড়

পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার, নিহত বেড়ে ১৬

নবীন ফ্যাশনের ঘটনায় ডিএমপির তদন্ত কমিটি গঠন, হাতিরঝিল থানার ওসি ক্লোজড

‘ফেরিতে বড় মেয়েকে নিয়ে নেমে যাই, স্ত্রী আর ছোট মেয়ের সন্ধান পাইনি’

দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: কুমারখালী থেকে ৬ যাত্রী নিয়ে যাত্রা করেছিল সৌহার্দ্য পরিবহন

কালীগঙ্গা নদী থেকে যুবকের মাথাবিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার

শুভেচ্ছা জানিয়ে টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেললেন বিসিসির প্রশাসক, এলেন রিকশায়