রাজধানীতে খিলগাঁওয়ের পৃথক স্থান থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এঁরা হলেন— খিলগাঁও মেরাদিয়া এলাকার রিকশাচালক সাগর মিয়া (২৩) এবং খিলগাঁও তিলপাপাড়া এলাকার সৈয়দ রিফাত আবির (৩৩)।
আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে খিলগাঁও মেরাদিয়া মধ্যপাড়ার বাসা থেকে সাগর মিয়ার মরদেহ এবং গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে খিলগাঁও তিলপাপাড়ার ১৩ নম্বর রোডের বাসা থেকে সৈয়দ রিফাত আবিরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য দুটি মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্বজনদের ধারণা, দুই যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
সাগরের ফুপাতো ভাই হৃদয় মিয়া জানান, সাগর রিকশা চালাতেন। পাঁচ মাস আগে বিয়ে করেন তিনি। মেরাদিয়া মধ্যপাড়ার টিনশেডের ভাড়া বাসায় স্ত্রী সুরাইয়া আক্তারকে থাকতেন সাগর। পারিবারিক বিষয় নিয়ে গতরাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করেন তিনি। এর পর ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেন সাগর।
খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমদাদুল হক বলেন, গতরাতে মেরাদিয়ার বাসা থেকে সাগরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় ছিলেন তিনি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। রিকশা চালক সাগর ঠিকমতো কাজ করতেন না। তাই অভিমান করে তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান। এই অভিমানে সাগর আত্মহত্যা করেছেন।
এদিকে মৃত সৈয়দ রিফাত আবিরের ভাই সৈয়দ রিসাদ আরিফ জানান, খিলগাঁও তিলপাপাড়া তাদের নিজেদের বাড়ি। রিফাত এলাকায় সেন্ট্রাল ইন্টারনেট লিংক কোম্পানির ম্যানেজার ছিলেন। চার বছর আগে ২০২২ সালে বিয়ে করেন রিফাত। বনিবনা না হওয়ায় চার বছর আগে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ডিভোর্স হয়।
রিসাদ আরিফ আরও জানান, তিন বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে রিফাত। তবে সাবেক স্ত্রী ফোন করে রিফাত ও বর্তমান স্ত্রী সোনিয়াকে বিরক্ত করতেন। এ ঘটনায় রাগ করে সোনিয়া তাঁর বাবার বাসায় চলে যান। গতকাল সকাল থেকে রিফাতের কক্ষ বন্ধ পাওয়া যায়। সারা দিন কক্ষ না খোলেননি তিনি। রাতে দরজা ভাঙার পর রিফাতকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। পরে থানা-পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হয়।
খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আহসান উল্লাহ জানান, পারিবারিক কলহে রিফাত আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।