নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানার ভেতরে পরিবারসহ দুই আওয়ামী লীগ নেতার ‘বেয়াইখানার’ ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে দ্বীপ থানা হাতিয়ায় বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন সহকারী শহর উপপরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলাম, সহকারী শহর উপপরিদর্শক (এটিএসআই) কবির আহম্মদ ভূঁইয়া, কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন, মো. হাসান ও সাইফুল ইসলাম।
এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) লিয়াকত আকবর ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পরিদর্শক (ক্রাইম) মো. শাহ আলম।
এ কমিটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এ ছাড়া ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিক হাতিয়া থানার বিভিন্ন ফাঁড়িতে বদলি করা হয়েছে।
এর আগে ১৯ জানুয়ারি দুপুরে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নারী হাজতখানার ভেতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সহযোগিতায় হত্যাসহ একাধিক মামলায় জেলে থাকা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের পরিবার হাজতখানার ভেতর ওই ‘বেয়াইখানার’ আয়োজন করে। ওই আয়োজন করা হয় আদালতের নারী আসামিদের জন্য সংরক্ষিত হাজতখানার ভেতরে। যেখানে আসামিরা ছাড়াও আজম পাশা রুমেলের স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি, মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থিসহ দুই পরিবারের বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, জেলা কারাগারে দুই নেতার কথাবার্তার পর গত ৩০ ডিসেম্বর কোম্পানীগঞ্জের যুবলীগ নেতা আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থির সঙ্গে হাতিয়া আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবের বিয়ে হয়। কিন্তু দুই বেয়াই হত্যা-বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলায় কারাগারে থাকায় গত সোমবার হাজিরার দিন চিফ জুডিশিয়াল হাজতখানায় ওই বেয়াইখানার আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন থানায় আরও একাধিক মামলা চলমান। অন্যদিকে অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।