নেত্রকোনা পৌর শহরের বাহিরচাপড়া এলাকায় অন্যের জমি দখলে নিতে রাতারাতি ঘর বানিয়ে বাউল সাধকের ব্যানার টাঙানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির মালিক পার্শ্ববর্তী বালুয়াখালি গ্রামের মাহমুদা আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের মেয়ে।
অভিযুক্তরা হলেন পৌর শহরের বাহিরচাপড়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মো. আমির বাশার (৫৫) ও তাঁর ভাই মো. এমরান বাশার (৪৫), একই গ্রামের মো. শফিকুল ইসলাম (৫০), মো. খাইরুল মিয়া (৪০), মো. কালা মিয়ার ছেলে মো. সাজ্জাদুল (৩৮) ও মো. সোহরাব (৪৫)।
অভিযোগে মাহমুদা আক্তার জানান, তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি ১ একর ১৫ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে পাশের গ্রামের আমির বাশার ও এমরান বাশারসহ কয়েকজন মিলে দখলের চেষ্টা করছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ২টার দিকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ওই জমির কিছু অংশ ভরাট করে। পরে বাড়িতে আগেই তৈরি করে রাখা দুটি ঘর নিয়ে এসে সেখানে স্থাপন করে। ঘরের সামনে বাউল সাধকের ব্যানার টানিয়ে রাখা হয়। খবর পেয়ে পরদিন এ বিষয়ে বাধা দিতে গেলে দখলদারেরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পাশাপাশি তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় পরদিন মাহমুদা আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে তারা জোর করে আমাদের পৈতৃক জমিটি দখলের চেষ্টা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় তারা জমির কিছু অংশ দখলে নিয়ে ঘর নির্মাণ করেছে। এতে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
মাহমুদার ভাই সজিব তালুকদার বলেন, ‘জায়গার সিএসসহ সকল কাগজ আমাদের। কিন্তু তারা জোর করে দখল নিয়ে মালিকানা দাবি করছে। সড়কের পাশে মাটি ভরাট করে রাতারাতি ঘর তুলে বাউলের আস্তানা দাবি করে ব্যানার টানিয়েছে। একটা স্পর্শকাতর বিষয়কে দখলের ঢাল বানিয়েছে। এটা আরও নিন্দনীয় কাজ। আমরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। আশা করছি ন্যায়বিচার পাব।’
সরেজমিন দেখা গেছে, জেলা শহরের পূর্বদিকে নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সদ্য মাটি ভরাট করে দুটি ঘর তৈরি করা হয়েছে। এর একটিতে বাউল সাধক রশিদ উদ্দিনের স্মরণসভার বিশাল ব্যানার টানানো রয়েছে। ১৯-২০ জানুয়ারি স্মরণ সভা হবে বলে ওই ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় বাবুল মিয়া ও কামরুল হাসান বলেন, ‘কয়দিন আগেও এখানে কোনো ঘর ছিল না। ঘরের জায়গাটি গভীর গর্ত ছিল। হঠাৎ এক রাতে ভেকু দিয়ে মাটি ভরাট করে দ্রুত ঘর তৈরি করা হয়েছে। জায়গাটি নিয়ে ঝামেলা চলছে শুনেছি। দখল পাকাপোক্ত করতেই বাউলের আস্তানা প্রমাণের জন্য ঘরে ওই ব্যানার টানানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ওই খানে কোনো বাউলের আস্তানা ছিল না। এটি দখলের একটি অভিনব কৌশল।’
এ বিষয়ে বাহিরচাপড়া গ্রামের বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি রতন মিয়া বলেন, ‘জায়গাটি দীর্ঘ বছর ধরেই আমির বাশার ও এমরান বাশারদের দখলে ছিল। তবে তাদের কোনো কাগজপত্র ছিল না। কয়েক বছর আগে কাগজপত্রে মাহমুদাদের পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে জানা গেছে। এ নিয়ে কয়েক বছর আগে সালিস করে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে কিছু জায়গা আমির বাশার ও এমরান বাশাররা টাকা দিয়ে কিনে নেবেন। কিন্তু পরে সেটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। তবে কয়দিন আগেও ওই জায়গায় কোনো ঘর ছিল না।’
অভিযুক্ত এমরান বাশার বলেন, ‘এই জমিতে মাহমুদাদের কোনো অংশ নেই। আমরা প্রকৃত মালিকের থেকে এটি কিনে নিয়েছি। ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে জায়গাটি আমাদের দখলে রয়েছে। রেকর্ডসহ কাগজপত্রে থাকা কিছু ত্রুটি সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা করা হয়েছে। সড়কের পাশে রাতারাতি ঘর তোলা হয়নি। আগে থেকেই সেখানে ঘর ছিল। বাউলসম্রাট রশিদ উদ্দিনের আত্মীয়দের কাছ থেকে জায়গাটি কেনা হয়েছে বলে একটি ঘর তাঁর স্মরণে রাখা হয়েছে।’
নেত্রকোনা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আকমল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সমাধানে দুই পক্ষই দ্রুত আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। এতে সমাধান না হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’