খুলনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়হীন পরিবেশে করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন খুলনা সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে ব্যালট পেপার স্ব-স্ব রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে। খুলনার ৮৪০টি ভোটকেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার জানিয়েছেন, খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনের ৮৪০ কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ শুরু করেছে। প্রায় ১ হাজার ১০০ সেনাসদস্য কাজ করছেন। তিনি জানান, প্রতিটি উপজেলায় দুই প্লাটুন বিজিবি এবং দুই প্লাটুন আনসার টহলে থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এঁদের মধ্যে চারজন করে থাকবেন অস্ত্রধারী। এ ছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে একজন করে অস্ত্রধারী আনসার সদস্য থাকবেন।
আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, প্রতিটি উপজেলায় দুজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। খুলনা শহর ও শহরের বাইরে ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র সম্পর্কে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিটি কেন্দ্রকেই আমরা ঝুঁকি হিসেবে দেখছি। তবে ৫৫৮টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছি। ফলে সেখানে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা থাকবে। যাতে কেউ অনৈতিক কাজ করলে ধরা পড়বে। টহল দল ২০ মিনিট পরপর প্রতিটি কেন্দ্র পরিদর্শন করবে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নেওয়া হবে।’
র্যাব-৬ খুলনার অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে খুলনা বিভাগের ৮টি জেলায় ৬৮টি টহল পরিচালনা করছে র্যাব। স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে আমরা উপস্থিত থাকব। রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। কোনো কেন্দ্র আক্রান্ত হলে সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, খুলনা-১ আসনের দাকোপ, খুলনা-৬ আসনের কয়রা এবং পিরোজপুর-৩ আসনের মঠবাড়িয়া উপজেলার নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকাসমূহে ১৬টি ইউনিয়নের ৬৬টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে। এ সময় ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাসমূহে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি, ড্রোন নজরদারি, নিয়মিত টহল ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে একটি উৎসব মুখর ভোটের পরিবেশ সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
জানতে চাইলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতায় খুলনা-২ ও খুলনা-৩ আসনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ২ হাজার ৯০০ পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। সাদাপোশাকের পাশাপাশি গোয়েন্দা ইউনিটগুলো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নজরদারিতে রাখবে।
খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির মিডিয়া শাখা জানায়, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ১৬ হাজার ৭৫৫ জন পুলিশ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকবে। এ ছাড়া যৌথ বাহিনীর সঙ্গে টহলে থাকবেন পুলিশ সদস্যরা।