রাজধানীর উত্তরা সেক্টর-১১-এর রোড-১৮-এর একটি সাততলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৫ জন হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ১৩ জনকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে আগুনের সূত্রপাত হয়।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত একই পরিবারের তিনজনসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে তিনজন এবং একটি বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে দুজন মারা গেছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন—একই পরিবারের ফজলে রাব্বী (৩৮), তাঁর স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) ও তাঁদের ছোট ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২)। অন্য দুজন হলেন—হারিস (৫২) ও রাহাব (১৭)।
এর আগে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের তালহা বিন জসিম এক বার্তায় গণমাধ্যমকে আগুনে হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেন।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। চার মিনিট পর, অর্থাৎ ৭টা ৫৪ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসে খবর পৌঁছায়। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয় এবং সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
দীর্ঘ চেষ্টা শেষে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে সকাল ১০টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। এই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস নিশ্চিত করেছে।
আফরোজার মামাতো ভাই মো. আবু সাইদ জানান, ফজলে রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড়। তিনি ওষুধ প্রস্তুতকারক এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের কর্মরত। আর তাঁর স্ত্রী আফরোজা আক্তার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। তাঁদের দুই ছেলে ফাইয়াজ ও রাফসান।
তিনি জানান, স্বামী-স্ত্রী দুজনই কর্মজীবী হওয়ায় তাঁদের দুই ছেলে উত্তরাতেই নানির বাসায় থাকত। আজ শুক্রবার অফিস বন্ধের দিন হওয়ায় গতরাতেই ছোট ছেলেকে নানির বাসা থেকে মায়ের বাসায় নিয়ে আসেন। আজ সকালে ওই বাসায় আগুনের সংবাদ পান স্বজনেরা।
আফরোজার বোন আফরিন জাহান জানান, আফরোজাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের বাকি দুজনের মরদেহ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সবাই ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। শরীরে কোথাও দগ্ধ হয়নি।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আফরোজাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে তাঁর শরীরে কোনো পোড়া ক্ষত নেয়। ধোয়ায় অসুস্থ হয়ে তিনি মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সংবাদ জানার সঙ্গে সঙ্গে মরদেহ আবার উত্তরা নিয়ে চলে যায়।