হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরে অস্থিরতা: বিদেশি অপারেটরদের সুবিধা দিতেই মাশুল

 আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: সংগৃহীত

অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থায় ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারকেরা যখন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াই করছেন, ঠিক তখনই চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল বাড়ানো হলো। ব্যবসায়ীদের বিরোধিতা সত্ত্বেও এ মাশুল ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। এ অবস্থায় গতকাল শনিবার কনটেইনার পরিবহন বন্ধ করে বন্দরের কার্যক্রম থমকে দিয়েছেন চালকেরা। কারণ বন্দরের প্রবেশ ফি ৫৭.৫০ টাকার জায়গায় ২৩০ টাকা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বেড়েছে ১৭২.৫০ টাকা। এ ছাড়া বন্দরের পুরো মাশুল ব্যবস্থাপনা নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি অপারেটরদের সুবিধা দিতেই বন্দরের মাশুল বাড়ানো হয়েছে। এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরামের আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সরকারকে সাত দিন সময় দিতে চাই। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে বর্ধিত মাশুল স্থগিত করার দাবি জানাই।’ তিনি আরও বলেন, এ সময়ে প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে স্টেক হোল্ডাররা (অংশীজনেরা) কর্মবিরতি পালন করবেন।

চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরামের আহ্বায়ক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৪১ শতাংশ মাশুল বৃদ্ধি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য এক গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর কার্যক্রম ‘কস্ট-বেইজড অ্যান্ড সার্ভিস-ওরিয়েন্টেড’ মডেলে পরিচালিত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। চট্টগ্রাম বন্দরে মাশুল বাড়ানো হয়েছে বিদেশি অপারেটরদের সুবিধা দিতেই। তিনি আরও বলেন, ১৯৮৬ সালে সর্বশেষ ট্যারিফ-কাঠামো প্রণয়নের সময় মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রার বিনিময় হার ছিল ৩০.৬১ টাকা। বর্তমানে (২০২৫ সালে) এই হার ১২২ টাকা ছাড়িয়েছে, অর্থাৎ বন্দরের বিদ্যমান ট্যারিফেই কার্যত চার গুণের বেশি বেড়ে গেছে। এ ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর ২ হাজার ৯১৩ কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বর্ধিত মাশুল স্থগিত করে তা পুনর্বিবেচনার দাবিতে ১৪ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরাম।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে ২৩টি খাতে বর্ধিত মাশুল আদায় শুরু করার ঘোষণা দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

একে একে চট্টগ্রাম বন্দরের সব টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরদের হাতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিটিসি) সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালকে (আরএসজিটিআই) দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৩০ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরদের হাতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের দুই টার্মিনাল লালদিয়া ও নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) এবং কেরানীগঞ্জের পানগাঁও। আগামী ডিসেম্বরে এদের সঙ্গে চুক্তি হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ।

১২ অক্টোবর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পে বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ এ তথ্য জানান। এতে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘২০২০ সালে সরকার চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ে বিদেশি কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে। তাদের প্রতিবেদন সরকার ছয় মাস আগে পেয়েছে।’

সংশোধিত ট্যারিফ সূচির বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) এবং আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর—উভয়েরই আয় এতে বাড়বে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সেসব সেবায়, যেগুলো সরাসরি বেসরকারি অপারেটরদের আয়ের উৎস। বিদেশি অপারেটরদের হ্যান্ডলিং কার্যক্রম—ক্রেন অপারেশন, কনটেইনার লোডিং ও আনলোডিং, স্টোরেজ, রিফার প্লাগ-ইন এবং কনটেইনার চলাচলের ট্যারিফ গড়পড়তা ১৪৪ শতাংশ বেড়েছে। তুলনামূলকভাবে, সিপিএ-সংক্রান্ত চার্জ, যেমন পাইলটেজ, নেভিগেশন এবং নদী শুল্ক প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বন্দরের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ১৫ অক্টোবর থেকে আদায় হওয়া বন্দরের বর্ধিত মাশুলের অংশ কোনো আবেদন ছাড়াই পতেঙ্গা টার্মিনালের বিদেশি অপারেটর আরএসজিটিআই পাবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ৪০ বছর পর চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণে বছরে অনেক টাকা ব্যয় হয়, তাই ৩০-৪০ শতাংশ মাশুল বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, মাশুল বাড়ানোকে কেন্দ্র করে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টম-বিষয়ক সম্পাদক মো. রেজাউল করিম স্বপন জানান, একে একে চট্টগ্রাম বন্দরের সব টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরদের হাতে যাচ্ছে। এ সময়ে মাশুল বৃদ্ধি করার কোনো যুক্তি নেই। যেন বিদেশি অপারেটরদের সুবিধা দিতেই বন্দরের মাশুল বাড়ানো হয়েছে।

একইভাবে প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘কার স্বার্থে বন্দরের মাশুল বাড়ানো হয়েছে? বন্দরে মাশুল পরিশোধ হয় ডলারে। ৩০ বছরে ডলারের দাম চার গুণ বেড়েছে।’

সৈয়দপুরে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাংকসহ পুড়ল ২৫ প্রতিষ্ঠান

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট, চরম ভোগান্তি

কচুয়ায় নিখোঁজের এক দিন পর পুকুর থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

বিজিবিকে সঙ্গে নিয়ে গভীর রাতে সংসদ সদস্যদের মাদকবিরোধী অভিযান

বগুড়ায় ছাত্রদল নেতার ছুরিকাঘাতে আরেক নেতা আহত

খুলনায় গুলিবিদ্ধ আজিজ ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা গেছেন

রাজশাহীতে গুদামে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

রাজধানীর সায়েদাবাদে মাদক কারবারিদের গুলিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আহত

তালায় বিএনপির কার্যালয়ে আগুন

মনিরামপুরে মাছের ঘেরে মিলল কিশোরের রক্তাক্ত লাশ