হামের প্রকোপ বাড়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে শিশুদের টিকা দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। আজ রোববার ময়মনসিংহে সকাল থেকে টিকা কেন্দ্রে দলে দলে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা দিয়েছেন তাঁরা।
রোববার সকাল ৯টায় ময়মনসিংহ সদরের চুড়খাই ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত কেন্দ্রে হামের টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করার কথা থাকলেও সংসদ সদস্য দেরিতে আসায় তা সকাল ১০টায় শুরু হয়। শিশুদের টিকা দিতে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে আসতে শুরু করেন অভিভাবকেরা। কিছুটা ভোগান্তি হলেও টিকা দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।
বড়বিলাপাড় গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়া আক্তার যমজ চার বছর বয়সী দুই মেয়ে মানহা বিনতে মোহাম্মদ এবং মুনতাহা বিনতে মোহাম্মদকে নিয়ে কেন্দ্রে টিকা দেন। দুই সন্তান ব্যথায় কাঁদলেও হাসতে দেখা যায় সাজিয়া আক্তারকে। তিনি বলেন, আজ থেকে দুশ্চিন্তা কিছুটা কমল। আশপাশে হামের রোগী বাড়ায় মেয়েদের নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। এখন নিজের কাছে খুব ভালো লাগছে।
পনগাগড়া গ্রামের শামসুন্নাহার তিন বছর বয়সী একমাত্র ছেলে তানজিম হাসানকে হামের টিকা দিয়ে নিশ্বাস ফেলে বলেন, ‘আজ থেকে একটু স্বস্তির মধ্যে দিন কাটাতে পারব। কারণ, ছেলেকে টিকা দিতে পেরেছি। দ্রুত এমন উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’
জেলায় হামের হটস্পট সদর, ত্রিশাল এবং ফুলপুর উপজেলায় টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৪ হাজার টিকা মজুতের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (হাসপাতাল) সৈয়দ আবু আহমেদ শাফি বলেন, ‘সারা দেশে রেড জোন হিসেবে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় প্রাথমিকভাবে হামের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের দেওয়া হচ্ছে হামের টিকা। এতে হামের প্রাদুর্ভাব কমে যাবে।’
ময়মনসিংহ সদরের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে যেন সুশৃঙ্খলভাবে টিকা দেওয়া হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।