কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবিরের বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৭ টাকা। তাঁর স্থাবর-অস্থাবর মিলে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকার সম্পদ রয়েছে। তাঁর স্বামী সাদেকউল কাবিরের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আছে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫৭ টাকার। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর জানিয়ে কাজী রেহা কবির তাঁর পেশা হলফনামায় ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তাঁর নামে কোনো মামলা নেই বলেও জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রার্থী হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন কাজী রেহা কবির। হলফনামায় কাজী রেহা কবির উল্লেখ করেছেন, তিনি দ্বৈত নাগরিক নন। বয়স ৪৮ বছরের বেশি এই প্রার্থীর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা রাজধানীর গুলশানে।
সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, তাঁর কাছে নগদ ২ লাখ টাকা ও ট্রাস্ট ব্যাংকে ২৫ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা রয়েছে। তাঁর স্বামী সাদেকউল কাবিরের নগদ ৪৫ লাখ ২ হাজার ৯১৭ ও আইএফআইসি ব্যাংকে ৮ লাখ ৫২ হাজার ৯৪০ টাকা রয়েছে। কাজী রেহা কবিরের একটি হার্ড জিপ রয়েছে, যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। তাঁর স্বামীর একটি জিপ গাড়ির অধিগ্রহণকালীন মূল্য ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামায় কাজী রেহা কবিরের ৫০ ভরি সোনা দেখানো হয়েছে, যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য ৮ লাখ টাকা। স্বামী কাবিরের দেখানো হয়েছে ৪০ ভরি সোনা, যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য ৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। কাজী রেহা কবিরের ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্র বাবদ হলফনামায় প্রযোজ্য নয় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্বামী সাদেকউল কাবিরের ইলেকট্রনিক পণ্য ৫ লাখ ও আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ লাখ টাকা। এই দম্পতির কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
রাজধানীর গুলশানে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে কাজী রেহা কবিরের, যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। স্বামী সাদেকউল কাবিরের নামে রাজধানীর উত্তরায় ৩ কাঠা অকৃষিজমি রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ১৫২ টাকা। রাজধানীর উত্তরায় একটি ভবন রয়েছে, যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য ৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।
আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, কাজী রেহা কবিরের সম্পদের পরিমাণ ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ৩২৭ টাকা। আয়ের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৭ টাকা। তিনি আয়কর দেন ৯ হাজার ৪১৭ টাকা। অন্যদিকে তাঁর স্বামী সাদেকউল কাবিরের সম্পদ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ১৫ হাজার ১৩৩ টাকা। আয়ের পরিমাণ হলো ১০ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮ টাকা। তিনি আয়কর দেন ৬৮ হাজার ৬৪০ টাকা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ৩ জানুয়ারি এই আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।