পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় অসহায় পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিএফের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। সোমবার উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণের সময় এই অভিযোগ ওঠে।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, বহরমপুর ইউনিয়নে ২ হাজার ৬৪৫টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের জন্য জনপ্রতি ১০ কেজি করে মোট ২৬ টন ৪৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই চাল ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৯ জন ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের মাধ্যমে বিতরণের জন্য ভাগ করে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, চাল বিতরণের সময় কয়েকটি ওয়ার্ডে পাঁচজন উপকারভোগীকে একটি ৩০ কেজির বস্তা দেওয়া হয়েছে। এতে জনপ্রতি ১০ কেজির পরিবর্তে প্রায় ৬ কেজি করে চাল পেয়েছেন অনেকে। ফলে প্রত্যেকের প্রাপ্য অনুযায়ী প্রায় ৪ কেজি করে কম পেয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চাল বিতরণের সময় অনেক উপকারভোগী অভিযোগ করলেও পরে যা পেয়েছেন তা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী মুন্নি বেগম ও আল আমিন বলেন, ‘সরকার আমাদের ১০ কেজি করে চাল দিয়েছে। কিন্তু মেম্বার পাঁচজনকে ৩০ কেজির একটি বস্তা দিয়ে বলেছেন—এর বেশি নেই। আমরা গরিব মানুষ, তাই আর কিছু বলতে পারিনি।’
১ নম্বর ওয়ার্ডের নিজিম, মোসলেম ও বেগম জানান, তাঁদের ১০ কেজি দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ৬ কেজি করে চাল পেয়েছেন। প্রতিবাদ করলে মেম্বাররা রাগারাগি করেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। বহরমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সুখি বেগম ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জলিল বলেন, তাঁদের ওয়ার্ডে জনসংখ্যার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় সবাইকে ১০ কেজি করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের মধ্যে সমানভাবে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
বহরমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সোহাগ খান বলেন, ইউপি সদস্যদের সমহারে চাল বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কোনো সদস্য কম দিলে তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ২ হাজার ৬৪৫ জনের জন্য জনপ্রতি ১০ কেজি করে মোট ২৬ টন ৪৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী ইউপি সদস্যদের মধ্যে চাল ভাগ করে দেওয়া হয়। চাল কম দেওয়ার অভিযোগ মৌখিকভাবে শুনে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, চাল কম দেওয়ার বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।