নোয়াখালীর সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ মেটাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের মারধরে সেলিম (৫১) নামের এক কৃষক দল নেতা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার সন্ধ্যায় দাদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গৌরীপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত মো. সেলিম ওই গ্রামের মৃত মো. শাহজানের ছেলে এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কৃষক দলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সেলিমের ছেলে অন্তরের সঙ্গে এলাকার সজল, শাওন, ফাহাদ, রিয়াজসহ কয়েকজন কিশোরের সিনিয়র-জুনিয়র বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। শনিবার দুপুরে এ নিয়ে মোবাইলে অন্তর ও সজলের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে সন্ধ্যায় সজল তাঁর সহযোগীদের নিয়ে সেলিমের বাড়ির সামনে এলে অন্তর বাইরে বের হয়ে আসেন। এ সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অন্তরের বড় ভাই শাকিল এগিয়ে যান। এ সময় শোরগোল শুনে নিজের দোকান থেকে বের হয়ে ঘটনাস্থলে যান সেলিম। অভিযোগ রয়েছে, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করেন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ব্যক্তির বড় ছেলে শাকিলের অভিযোগ, পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাঁর বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হামলাকারীরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেন তিনি।
দাদপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি সেলিম উল্লাহ বলেন, নিহত সেলিম স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী ও দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন তিনি।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।