বসন্তের শেষ ভাগে প্রকৃতির রঙিন আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বরুণ ফুল। সাদা ও হালকা হলুদ রঙের থোকায় থোকায় ফুলে এখন সেজে উঠেছে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গ্রামাঞ্চল। নয়নাভিরাম এই দৃশ্য যেমন মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে, তেমনি অবহেলা ও অনাগ্রহে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে মূল্যবান ভেষজ গাছটি।
স্থানীয়ভাবে ‘বউন্নাগাছ’ নামে পরিচিত এই ভেষজ গাছ অঞ্চলভেদে বন্না, বইন্না, শ্বেতপুষ্প, কুমারকসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত। বরুণ একটি বহুবর্ষজীবী ঔষধি গাছ। এর ফল গোলাকার ও শক্ত, বীজ ও শিকড় থেকে এর বংশবিস্তার হয়। বসন্তের মাঝামাঝি সময় থেকে বৈশাখ পর্যন্ত ফুলের সমারোহ থাকে, গাছভর্তি ফুলের কারণে অনেক সময় পাতা দেখা যায় না।
বরুণ গাছের ঔষধি গুণও কম নয়। এর ছাল, পাতা, ফুল ও ফল বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়ে আসছে। চর্মরোগ, গ্যাস্ট্রিক, ক্ষুধামান্দ্য, বাত, কফ ও পিত্তজনিত সমস্যায় এটি কার্যকর। কিডনি ও পিত্তথলির পাথর নিরাময়েও বরুণের ছাল ব্যবহৃত হয়। ফল রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাঈমা হক আখি জানান, সারা বছর গাছটি তেমন চোখে পড়ে না; তবে গ্রীষ্মের শুরুতে ফুল ফুটিয়ে নিজেকে প্রকাশ করে। সাদা পাপড়ির মধ্যে লালচে কেশরযুক্ত ফুলগুলো খুবই দৃষ্টিনন্দন। বৃক্ষপ্রেমী শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বরুণ ফুল প্রকৃতিতে এক অনাবিল সৌন্দর্য নিয়ে আসে, কিন্তু মানুষের অনাগ্রহের কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউনানি চিকিৎসক সোহেল রানা জানান, প্রাচীনকাল থেকে বরুণ গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ গাছ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাতা চর্মরোগ ও ব্যথা নিরাময়ে কার্যকর, শিকড় গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় ব্যবহার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাঠ ব্যবহারযোগ্য না হওয়ায় এই গাছ রোপণে আগ্রহ কম। ফলে গ্রামীণ পরিবেশে এর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। একসময় ফল পাকাতে বরুণ পাতার ব্যবহার ছিল। পাশাপাশি কচি ডগা ভর্তা বা ভাজি করে এবং কাঁচা ফল রান্না করে খাওয়ার প্রচলনও ছিল। প্রকৃতির শোভা ও ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ এই বরুণ গাছ সংরক্ষণে এখনই উদ্যোগ না নিলে অচিরেই গ্রামবাংলা থেকে এটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।