নারায়ণগঞ্জের মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচার দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ২৪ বিশিষ্ট নাগরিক। ১৩ বছরেও চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় বিবৃতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তারা।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও শিল্পীরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২০১৩ সালের ৬ মার্চ নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয় নারায়ণগঞ্জের মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে। সে বছর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে দুজন ঘাতক ত্বকী হত্যার বিশদ বর্ণনা দেয়। ২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব ত্বকীকে কেন, কখন, কোথায়, কারা, কীভাবে হত্যা করেছে তার বিস্তারিত জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। কিন্তু তৎকালীন সরকারপ্রধানের ইচ্ছাতে সে বিচার প্রক্রিয়া সাড়ে ১১ বছর বন্ধ হয়ে থাকে। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে কিছু তৎপরতা দেখালেও তাদের দেড় বছরের শাসনামলে বিচারের উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয় নাই। মামলার ১০১টি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হলেও অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়েনি। ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্ব হওয়ায় এটি সমাজের মৌলিক অধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা আশা করছি, আর কাল বিলম্ব না করে অভিযোগপত্র দ্রুত আদালতে জমা দেওয়া হবে। এই বিচার সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে নতুন সরকার দেশের বিচার বিভাগ ও বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের হতাশা ও অনাস্থার অবসান ঘটাবার সক্রিয় উদ্যোগ নেবে। সুবিচার পাওয়া দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। আমরা মনে করি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা গণতন্ত্র, সাম্য, অগ্রগতি, মানবিক মর্যাদা ও সভ্যতার মানদণ্ড। যে কোনো মূল্যে একে নিশ্চিত করতে হবে।’
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, শিক্ষাবিদ ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারোয়ার আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আহমেদ কামাল, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, মানবাধিকার সংগঠক অ্যাড. সুলতানা কামাল, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি লেখক-গবেষক মফিদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক শওকত আরা হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক শফি আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, আলোকচিত্রী মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম, মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির, আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, শিশুসংগঠক ডা. লেনিন চৌধুরী, কবি-সাংবাদিক সোহরাব হাসান, শিল্পী কফিল আহমেদ, আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাট্যকর্মী ড. সামিনা লুৎফা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আ-আল মামুন, আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, শিল্পী অরূপ রাহী, শিল্পী কৃষ্ণকলি ইসলাম ও শিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান।