১৩৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৬২০ টাকা আত্মসাতের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক, শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা, বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ঢাকা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ নির্দেশ দেন।
র্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সালমান এফ রহমানকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সকালে সালমানকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও আলিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া এলসি খুলে জনতা ব্যাংক পিএলসি, লোকাল অফিস, ঢাকা থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুদক পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত ৪ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ত বছর ৩ নভেম্বর সালমান এফ রহমান ও বেক্সিমকো গ্রুপের কর্মকর্তা এবং অন্যদের বিরুদ্ধে দুদক সদর দপ্তরে এই মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, স্কাইনেট অ্যাপারেলস লিমিটেড নামে একটি নবসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান যার নামে আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে ১৩৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৬২০ টাকা আত্মসাৎ করে ওই অর্থ নিজেদের মধ্যে হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে লেয়ারিং করেছেন মর্মে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হওয়ায় মামলাটি রুজু করা হয়।
রিমান্ড আবেদনের তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও ভাতিজা আহমেদ শাহরিয়ারসহ আরও অনেকে এই মামলার আসামি। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও প্রকৃত মদদদাতাদের সম্পর্কে তথ্য উদঘাটন, আত্মসাৎ করা অর্থের প্রকৃত পরিমাণ বের করা, পাচার সংক্রান্ত তথ্য উদঘাটন এবং পাচার করা অর্থ উদ্ধারের জন্য সালমান এফ রহমানকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১৩ আগস্ট সালমান এফ রহমানকে ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।