পটুয়াখালী শহরের মুকুল সিনেমা হল রোড এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় এক রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মারা যাওয়া ওই রোগীর নাম কৃষ্ণা রানী (৩২)। তিনি আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের অফিস বাজার এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামীর নাম পরিমল হাওলাদার।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে কৃষ্ণা রানীকে মুকুল সিনেমা হলের মায়ো মায়ো ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। ভর্তি করার অল্প সময়ের মধ্যে চিকিৎসক অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তাঁর অপারেশন হয়। অপারেশনের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ৯টার দিকে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বরিশাল নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
কৃষ্ণা রানীর বড় বোন বিষ্ণু রানী বলেন, ‘ক্লিনিকে ভর্তি করানোর সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক সঞ্চারী পাল রিমি দ্রুত অপারেশনের কথা বলেন এবং রক্ত সংগ্রহ করতে বলেন। আমরা রক্ত সংগ্রহে ব্যস্ত থাকতেই আমার বোনের ১২ বছর বয়সী বড় মেয়ের রক্ত নিয়ে তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়।’
ছোট বোন লক্ষ্মী রানী বলেন, ‘ভর্তি করার পরপরই তাঁরা অপারেশনের কথা বলেন। আমি বলেছিলাম, হাতে কিছুটা সময় আছে, পরে করলেও হবে। কিন্তু তাঁরা জানান, আট দিন আগের রিপোর্ট দেখে অপারেশন করা হবে। আমি আরও বলি, রোগী ভাত খেয়ে এসেছে, অন্তত দুই ঘণ্টা পর আলট্রাসনোগ্রাম করে অপারেশন করা উচিত। তখন তাঁরা বলেন, এখন অপারেশন না করলে বাচ্চার সমস্যা হবে।’ তিনি আরও বলেন, অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে ক্লিনিকের লোকজনই অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দেয় এবং দ্রুত বরিশাল নিতে বলে। নিজেরাই রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলে। কিন্তু লেবুখালী পার হওয়ার আগেই আমার বোন মারা যায়।’
এ বিষয়ে জানতে ক্লিনিকে গেলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের কোনো মন্তব্যও জানা যায়নি।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। জানতে পেরেছি, কৃষ্ণা রানী নামের এক নারী এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অপারেশনের পর মারা গেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাউকে এখনো পাওয়া যায়নি।’