বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় আগুনে দগ্ধ শিশু রাইসা আক্তার (১০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়।
রাইসা উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের দিনমজুর নজরুল ইসলাম হাওলাদারের মেয়ে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সে আগুনে দগ্ধ হয়। রাইসার স্বজনদের দাবি, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় একই গ্রামের জালাল সিকদারে ছেলে সিফাত সিকদার (১৮) রাইসার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
শিশুটির বাবা নজরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, সিফাত অনেক দিন ধরে রাইসাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গতকাল দুপুরে রাইসাকে রাস্তায় একা পেয়ে সিফাত তার পথরোধ করে। পরে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে রাইসার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই সময় পাশের বাড়ির বাসিন্দা তসলিম বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার করে আশপাশের লোকজন জড়ো করেন। পরে স্থানীয়রা গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাইসাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে রাইসার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠান। সেখানে ভর্তি হলে রাত ১০টার দিকে রাইসা মারা যায়। এ ঘটনায় তিনি (নজরুল ইসলাম) বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় মামলা করবেন বলে জানান।
অভিযুক্ত সিফাতের বাবা জালাল শিকদার বলেন, ঘটনার সময় তাঁর ছেলে নদীর পাড়ে গোসল করতে গিয়েছিল। পরে তিনি শুনেছেন, রাইসা আগুনে দগ্ধ হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে তাঁর ছেলে জড়িত নয় বলে তিনি দাবি করেন।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম বলেন, শিশুর অগ্নিদগ্ধ ও মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রোববার রাতেই দগ্ধ রাইসার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে রাইসা তার গায়ে আগুন লাগানোর জন্য সিফাতকে অভিযুক্ত করেছে।