হোম > সারা দেশ > খুলনা

খুলনা: সংকটে বিশেষায়িত হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 

ছবি: সংগৃহীত

জনবলসংকট, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে ভুগছে খুলনার বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। ডায়ালাইসিস ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জন্য রোগীদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বেড না পাওয়ায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

খুলনা নগরীর গোয়ালখালী এলাকায় তিনটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই হাসপাতাল। এর নাম ছিল শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পর হাসপাতালটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল। বর্তমানে এ হাসপাতালে ১১টি বিভাগ চালু রয়েছে। ৮৫ জন চিকিৎসক, ২০০ জন নার্স এবং ১০৩ জন সহায়ক কর্মচারী দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভাসকুলার সার্জারি, বার্ন ইউনিট ও নিউরো মেডিসিন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া সহায়ক কর্মচারীরও অভাব রয়েছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৫০০-৬০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে জনবল এবং যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শত শত মানুষ।

নষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সি-আর্ম মেশিন

হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ একটি সি-আর্ম মেশিন প্রায় এক বছর ধরে নষ্ট অবস্থায় রয়েছে। এই মেশিনের মাধ্যমে বিভিন্ন অপারেশন পরিচালিত হতো। মেশিনটি অচল থাকায় সংশ্লিষ্ট অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জানতে চাইলে হাসপাতালের বায়োমেডিকেল টেকনোলজিস্ট পলক কুমার রায় জানান, সফটওয়্যার সমস্যার কারণে মেশিনটি অচল হয়ে পড়ে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে একটি প্রতিনিধিদল এসে পরিদর্শন করে। তবে পুরোনো মডেলের হওয়ায় এর সফটওয়্যার সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

হৃদ্‌রোগ বিভাগের ভর্তি রোগী আবুল কালাম বলেন, ‘অন্য হাসপাতালের তুলনায় এখানে অনেক ভালো চিকিৎসা পাচ্ছি। খরচ কম, চিকিৎসাও সঠিকভাবে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অক্সিজেন সময়মতো দেওয়া হচ্ছে।’

এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, চিকিৎসার মান ভালো, চিকিৎসকদের আচরণও ভালো। তবে ভর্তি রোগীদের খাবারের মান আরও উন্নত করা দরকার।

ডায়ালাইসিসে সংকট

হাসপাতালে ২৮টি ডায়ালাইসিস মেশিন থাকলেও বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র ১৬টি। বাকি ১২টি মেশিন অচল থাকায় অর্ধেক রোগীকেই সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডায়ালাইসিসের জন্য রোগীদের দুই-তিন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, এই চাহিদা পূরণে অন্তত আরও ১৫-১৬টি মেশিন প্রয়োজন।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ আবু শাহিন বলেন, অচল মেশিনগুলো মেরামতের চেষ্টা চলছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে মেরামতের পর আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই নতুন মেশিনের প্রয়োজন রয়েছে। নতুন মেশিনে চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে সমস্যা থাকবে না।

আছে নিরাপত্তাঝুঁকি

হাসপাতালে প্রয়োজনীয় মালপত্র সংরক্ষণের জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্টোররুম নেই। ফলে বিভিন্ন কক্ষে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম রাখতে হচ্ছে, যা নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে। এ ব্যাপারে পরিচালক জানান, একটি স্টোর বিল্ডিং নির্মাণ করা গেলে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।

এদিকে ২৫০ বেডের হাসপাতাল হলেও বর্তমানে চালু রয়েছে ২১৬টি। বাকি ৩৪টি বেড অকেজো রয়েছে। ফলে রোগীদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দাবি, নবনির্বাচিত সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালের জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর করবে।

বড় জয়ের প্রত্যাশা বিএনপির, আশাবাদী জামায়াতও

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ৫০০ একর জমির ধান

অসচেতনতায় ডেঙ্গুর পর হামেও শীর্ষে বরগুনা

জীর্ণ টিনশেড থেকে দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়

ফেনীতে এবি পার্টির নেত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

অটোপাসের দাবিতে বিক্ষোভ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে হেনস্তা

সৌদি আরবে বুলডোজার দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর মৃত্যু

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ফি আদায় করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

চন্দনাইশে কর্নেল অলি আহমদের আগমনকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিক্ষোভ

জমি দখলের অভিযোগে যুবদল নেতা বহিষ্কার, আইনি ব্যবস্থার সুপারিশ