স্কুলে যাওয়া হলো না হাসিবুল ইসলাম জিহানের (১১)। নিয়ন্ত্রণহীন লরির চাপায় সড়কেই নিভে গেল তার জীবনপ্রদীপ। এ সময়ে গুরুতর আহত হয় তারই সহপাঠী ও চাচাতো বোন মেহজাবিন আক্তার তানিসা (১১)। তারা দুজন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ঘোলপাশা ইউনিয়নের আমানগণ্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
শনিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার সময়ে নিয়ন্ত্রণহীন লরির চাপায় ঘটনাস্থলেই হাসিবুল ইসলাম জিহান মারা যায়। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাব উদ্দিন। জিহান একই এলাকার প্রবাসী আবুল হোসেন ও অঞ্জু আক্তার দম্পতির ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওসি শাহাব উদ্দিন বলেন, শনিবার সকালে জিহান ও তানিসা হেঁটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুলে যাচ্ছিল। আমানগণ্ডা তাকিয়া আমগাছ নামক স্থানে পৌঁছালে পেছন থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের দুজনকে চাপা দিয়ে উল্টে যায়। এই সময়ে লরির নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই জিহানের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত তানিসাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ওসি শাহাব উদ্দিন আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত লরিটি জব্দ করা হয়েছে। গাড়ির চালক ও সহকারী পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে জিহানের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে শনিবার যথাসময় স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। স্কুলে আসার সময় আমার বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর জিহান দুর্ঘটনায় মারা যায়। এ ঘটনায় স্কুলে তার সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’