জন্মের পর থেকেই ঠান্ডাজনিত অসুখে ভুগছিল পাবনার বেড়ার ইয়াকুব আলীর মেয়ে নেহা (দুই মাস)। গেল ঈদের দিন তার শরীরে হাম দেখা দেয়। তারপর দ্রুতই ২৩ মার্চ তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশু বিভাগের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছিল। মঙ্গলবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে পিআইসিইউতে (শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) নেওয়ার পরামর্শ দেন। নেহার অভিভাবক দ্রুত পিআইসিইউতে গিয়ে সিরিয়াল দেন। তার সিরিয়াল পড়ে ১২। পিআইসিইউর জন্য অপেক্ষাধীন থাকা অবস্থাতেই গতকাল বুধবার দুপুরে শিশুটির মৃত্যু হয়।
ছোট্ট শিশুটির লাশ নিয়ে মা-বাবা যখন বাড়ির পথে, তখন বিকেলে পিআইসিইউ থেকে নেহার মা চামেলীর মোবাইল ফোনে কল আসে। সেখানে বেড খালি হওয়ায় নেহাকে নিয়ে তারা পিআইসিইউতে আসতে বলেন।
ফোন পেয়ে শোকাতুরা মায়ের কান্না যেন আর বাঁধ মানে না। পরে স্বজনেরা ফোন ধরে জানান, পিআইসিইউতে বেড না পেয়ে দুপুরেই নেহা মারা গেছে।
শিশু নেহার খালা মতিয়া খাতুন বলেন, ‘সময় মতোই হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। সময়মতো পিআইসিইউতে একটা বেড পেলে হয়তো বেঁচে যেত বাচ্চাটা।’
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নেহাসহ চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তারা মারা যায়।
মারা যাওয়া অন্য শিশুরা হলো, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সুইট রানার ছেলে সামিউল (ছয় মাস), কুষ্টিয়া সদরের সাধন শেখের ছেলে সাইফান (নয় মাস) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের রাফিউল্লাহর মেয়ে তাসফিয়া (এক মাস)। এরা তিনজনই শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি ছিল।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, গেল ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৭ জন ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হওয়ায় ছাড়পত্র পেয়েছে ২৪ জন।
বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৩২ জন রোগী। হামের সংক্রমণ শুরুর পর এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৪৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।