হোম > সারা দেশ > রংপুর

বিদ্যালয়ের মাঠে ধান চাষ

আনোয়ার হোসেন শামীম, গাইবান্ধা 

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ-রংপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে রামদেব দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে ধান চাষ। ছবি: আজকের পত্রিকা

খেলার মাঠ নেই, তাই ক্লাস আর বারান্দায় কাটছে রামদেব দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সময়। একদিকে জরাজীর্ণ টিনের ভবন, অন্যদিকে একতলা ভবন, তার সামনে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে করা হয়েছে ধান চাষ। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, খেলার মাঠের জমি বর্গা দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। এই অনিয়ম নিয়ে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুন্দরগঞ্জ-রংপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে রামদেব দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের বারান্দার সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী ছোটাছুটি করছে, অন্যরা বারান্দা ও ক্লাসরুমে দাঁড়িয়ে তা দেখছে। মাঠটি ধান চাষের জন্য বর্গা দেওয়ায় খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের রামদেব গ্রামে ১৫০ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। পরে আশির দশকে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করা হয়। পুরোনো টিনশেড ভবন জরাজীর্ণ হওয়ায় ২০১৩ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর একতলা ভবন নির্মাণ করে দেয়। আশপাশের ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। বর্তমানে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। ২৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। বিদ্যালয়টির সামনে মাঠের সাড়ে তিন বিঘা জমি বর্গা দেওয়া হয়েছে। তবে কাকে, কত টাকায় বা কিসের বিনিময়ে এই জমি বর্গা দেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি। বিদ্যালয়ের ভবন লাগোয়া সামনের ১০ ফুট জায়গায় চাষ করা হয়েছে ধান।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশমী, শারমিন ও সোহেলী আক্তার বলে, আমাদের বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে ধান ও ঘাস চাষ করা হচ্ছে, যা থেকে প্রধান শিক্ষক হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে মসজিদ নির্মাণ করার কথা বলে প্রধান শিক্ষক শ্রেণিভেদে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০-৩০০ টাকা নিয়ে মসজিদ নির্মাণ না করে তা আত্মসাৎ করেছেন।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শেফালী, লামিয়া ও সাগরিকা আক্তার বলে, খেলার মাঠে ধান চাষ করায় ক্লাসরুমে সময় কাটাতে হয়। কেন স্কুলমাঠে ধান চাষ করা হয়? সামান্য বৃষ্টি হলে সামনের জায়গায় পানি ওঠে। তাদের ক্লাসে বসে থাকতে হয়।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র মেহেদী হাসান ও নাজমুল হুদা জানান, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিলেও কোনো কাজ হয়নি। তাঁরা প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, প্রধান শিক্ষক ক্ষমতার দাপটে স্কুলের পাশে থাকা একটি ডাকঘর উচ্ছেদ করেছেন।

বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাঠে ছেলেমেয়েদের খেলাধুলা করার কথা। কিন্তু সেখানে ধান চাষ হচ্ছে। আশপাশে আর স্কুল না থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে এখানে সন্তানদের পড়াচ্ছি।’

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বদিয়ার রহমান বলেন, ‘আমি কিছুদিন হলো এখানে এসেছি। আসার পর থেকে দেখছি, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ধান চাষ হচ্ছে। বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষক জানেন।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বসুনিয়া বলেন, ‘আমার আগে যিনি প্রধান শিক্ষক ছিলেন, তিনি ওই মাঠের জমিটি বন্ধক রেখেছেন। এখনো ওই অবস্থায় আছে।’

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বেলাল হেসেন বলেন, ‘খেলার মাঠে ধান চাষ করা হয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শ্রীপুরে বাস দুর্ঘটনায় মেডিকেল শিক্ষার্থীসহ আহত ২

চীনের সম্মতির অপেক্ষায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

হত্যার হুমকি, ৩ মেয়ের দিকে খেয়াল রাখতে বললেন আমির হামজা

দেশকে পাল্টে দিতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীর ছিনতাই হওয়া অস্ত্র উদ্ধার

নরসিংদীতে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

মাদারীপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৬

শ্রীমঙ্গলে হিটার মেশিন বিস্ফোরণে নিহত ১

রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি, নিরাপত্তার দাবি

কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে ৩৫ ঘণ্টা পর ওসমানীর শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার