রেললাইনঘেঁষা বস্তি। সেখানে মাদকের রমরমা কারবার। থানায় খবর দিলে পুলিশ বলে এটা রেলওয়ে থানার কাজ। আর রেলওয়ে থানা দায় এড়ায় মেট্রোপলিটন পুলিশকে দেখিয়ে। পুলিশের ঠেলাঠেলিতে সেখানে বাড়ছিল মাদক কারবারির সংখ্যা। ফলে বস্তির মাদক কারবার ঠেকাতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন এলাকাবাসী।
এই বস্তির অবস্থান রাজশাহী নগরের ভদ্রা এলাকায়। এটি ভদ্রা বস্তি নামেই পরিচিত। সেখানে প্রায় ২০০ পরিবার বাস করে। এর মধ্যে সাত-আটটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট বিক্রি করে আসছে। পুলিশের ঢিলেমিতে আরও কয়েকজন জড়িয়েছে মাদক কারবারে।
স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার বস্তির মাদক বিক্রেতাদের ধরে ধরে তল্লাশি করা হয়। তাদের কাছে পাওয়া মাদকদ্রব্য পরে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ওইদিন ইফতারের পরই এক বাড়িতে মাদক সেবনের আসর বসিয়েছিলেন কয়েক তরুণ। এলাকাবাসী সেখানেও হানা দিয়ে সবাইকে আটক করে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এএসআই সরফরাজ নেওয়াজও। তাদের কাছে পাওয়া মাদকদ্রব্য ও মাদকসেবনের সরঞ্জাম পুড়িয়ে ফেলা হয়। পরে সবাইকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর এমন প্রতিরোধের বিষয়টি জানতে পেরে গত বুধবার বস্তিতে অভিযান চালিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সদস্যরা। এ সময় কিছু গাঁজাসহ ধরা পড়েন ময়না বেগম, আব্দুল্লাহ ও ফুয়াদ নামের তিনজন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের প্রসিকিউটর হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই বস্তির মাদক নির্মূলে এলাকাবাসী যে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন তা প্রশংসনীয়।’
জানা গেছে, ভদ্রা বস্তিতে মাদকবিরোধী এই কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি মো. রুবেল, মো. জিয়া, নগর যুবদলের সদস্য বিপ্লব রহমান নাঈম, ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য চাঁন মিয়া নয়ন, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম, স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ, শাওন আলী, মো. আক্কাশ, মো. আশিকসহ প্রবীণ ব্যক্তিরা।
বিপ্লব রহমান নাঈম বলেন, ‘থানা-পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ একে-অপরকে দেখিয়ে অভিযানে আসে না। বস্তি হয়ে উঠেছিল মাদকের স্বর্গরাজ্য। তাই এলাকার সবাই মিলে প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’