জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুরের তিনটি আসনে বিএনপির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। দুটি পক্ষই জোর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। দিচ্ছে নানা প্রতিশ্রুতি। তবে পিরোজপুর ১ ও ২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দুই সহোদর কাজে লাগাতে চান প্রয়াত বাবা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ইমেজ।
পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী) আসনে ’৯০-পরবর্তী কোনো নির্বাচনেই জিততে পারেনি বিএনপি। ১৯৯৬ ও ২০০১-এর নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে এমপি হয়েছিলেন জামায়াতের দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। এবার তাঁর ছেলে মাসুদ সাঈদী প্রার্থী হয়েছেন। দলটি অনেক আগে প্রার্থী ঘোষণা করায় তিনি প্রায় ৮ মাস ধরে নির্বাচনী এলাকায় সভা-সমাবেশ করে চলেছেন।
মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘জামায়াত আমাদের দুই ভাইকে দুটি আসনে প্রার্থী মনোনীত করে যে মহান দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা আমানতদারিতার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করব। আল্লাহর দয়া ও জনগণের ভালোবাসা নিয়েই আমরা আমাদের পথ চলব।’
মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, ‘আমাদের বাবা শহীদ আল্লামা সাঈদী যেভাবে সব মানুষের সেবা করে গেছেন, আমরাও তেমনি বাবার মতো জনগণের পাশে থেকে তাঁদের সেবা করতে চাই। ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ’২৪-এর বৈষম্যহীন সুখী-সমৃদ্ধিশালী একটি রাষ্ট্র গড়ার চেতনায় আমরা তরুণদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনের জন্য তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলাই হবে আমাদের লক্ষ্য।’
বিএনপির প্রার্থী দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক জেলা আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন। তিনি গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকেই নির্বাচনী মাঠে সরব। তিনি আশা করছেন, এবার তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।
অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বলেন, বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধেই দুবার জিতেছে জামায়াত। জোট না থাকলে তাদের নিজস্ব ভোট কত, তা সবার জানা। এই আসনে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে শুধু বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে।
পিরোজপুর-২ (ভান্ডারিয়া, কাউখালী ও নেছারাবাদ) আসনে বিএনপির প্রার্থী ভান্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহাম্মেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন। এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মাহমুদ হোসেন।
মাহমুদ হোসেন প্রথিতযশা সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ভাতিজা এবং পিরোজপুর-২ আসন থেকে ৭ বারের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর চাচাতো ভাই।
এই আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অন্য ছেলে শামীম সাঈদী। শামীম সাঈদী নির্বাচনী এলাকায় সভা, সমাবেশ, গণসংযোগ, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন। প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ইমেজ কাজে লাগিয়ে এই আসনে শতভাগ সাফল্যের আশাবাদী জামায়াতে ইসলামী।
আসনটিতে আহমেদ সোহেল মঞ্জুর ও শামীম সাঈদী ছাড়াও জাতীয় পার্টির (জেপি মঞ্জু) মাহিবুল হোসেন, এবি পার্টির ফয়সাল খান, ইসলামী আন্দোলনের আবুল কালাম আজাদ এবং মাহামুদ হোসেন (স্বতন্ত্র) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির শরীফ আবদুল জলিল। কিন্তু শেষ সময়ে ১০ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শামীম হামিদীকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন তিনি। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রুহুল আমীন দুলাল। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তিনি। রুহুল আমীন বেশ আগে থেকেই গণসংযোগ, পথসভাসহ দলের সভা ও সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হয়ে লড়ছেন ৫ বারের সংসদ সদস্য মো. রুস্তুম আলী ফরাজী। এখানে বিএনপি, এনসিপি এবং ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
এদিকে, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) পিরোজপুরের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম শেখ বলেন, দীর্ঘ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার সবার আশা যেন তাঁরা ভোটটি দিতে পারেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু রাজনীতিকের বক্তব্যে তিনি সুষ্ঠু ভোটের বিষয় কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) পিরোজপুরের সদ্য বিদায়ী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এম এ রব্বানী ফিরোজ মনে করেন, এবারের নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে। কেননা রাজনীতিকেরা দেশের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করেন, সুতরাং সবার কাম্য হওয়া উচিত আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হোক।