ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) ২১০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ১৪৭টি কেন্দ্র চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। ফলে ওই আসনের ৭০ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এর মধ্যে সোনারগাঁয়ে ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৯টি ও সিদ্ধিরগঞ্জের অংশে ৬৭টি ভোটকেন্দ্রের ৩৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।
জানা যায়, কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা, থানা থেকে ভোটকেন্দ্রের দূরত্ব, কোন এলাকায় কোন রাজনৈতিক দলের আধিপত্য রয়েছে, দুর্গম এলাকা ও চরাঞ্চল—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভোটকেন্দ্রগুলোকে লাল (অতি ঝুঁকিপূর্ণ), হলুদ (ঝুঁকিপূর্ণ) ও সবুজ (সাধারণ) তিন ভাগে ভাগ করেছে প্রশাসন। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৪৭টি। ঝুঁকি নেই এমন ভোটকেন্দ্র (সাধারণ) ৬৩টি।
পুলিশের একটি সূত্র বলছে, অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন পুলিশ সদস্য, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুজন সদস্য ও সাধারণ কেন্দ্রে একজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার প্রাথমিক পরিকল্পনা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের কাছে অস্ত্র এবং ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ (ভিডিও ক্যামেরা, যা পোশাক বা ইউনিফর্মে যুক্ত করে রাখা যায়) থাকবে।
এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর বাইরে মোবাইল টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরাসহ বিভিন্ন বাহিনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।
এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) মো. ইমরান আহম্মেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এই আসনের ১৪৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর মধ্যে চরাঞ্চল নুনেরটেকের দুটি ভোটকেন্দ্র ও চরকিশোরগঞ্জ-চরহোগলার তিনটি ভোটকেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে স্ট্রাইকিং ফোর্স ও একজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে পুলিশ সদস্যের কাছে অস্ত্র ও ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ (ভিডিও ক্যামেরা, যা পোশাক বা ইউনিফর্মে যুক্ত করা) থাকবে। এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স, সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরাসহ বিভিন্ন বাহিনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।