মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি ব্যাটারি-সিসা কারখানা। উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের আলম মরা ব্রিজ-সংলগ্ন ‘তানভির এন্টারপ্রাইজ’ নামে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ও পরিত্যক্ত ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদন করে আসছে। এতে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও রাসায়নিক পদার্থে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কারখানাটি বন্ধের দাবিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানায় পুরোনো ব্যাটারি ভেঙে আগুনে পোড়ানোর সময় তীব্র অ্যাসিডের গন্ধ ও কালো ধোঁয়া আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। দিনরাত ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা ও ত্বকের সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, কৃষিক্ষেত্রেও পড়ছে এর নেতিবাচক প্রভাব। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কারখানার তিন কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কৃষিজমির ফলন কমে গেছে। ফলদ ও বনজ গাছপালা ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম দেওয়ান বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ধরে এই কার্যক্রম চললেও তা বন্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অবিলম্বে কারখানাটি বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আশপাশের কৃষিজমির ফলন কমে গেছে, গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে। আমরা কৃষিকাজ করে সংসার চালাই। যদি এভাবে জমি নষ্ট হয়, তাহলে আমাদের বাঁচার উপায় থাকবে না। আমরা চাই দ্রুত এই কারখানা বন্ধ করা হোক।’
পরিবেশকর্মী ও সংগঠক আবু সায়েম বলেন, ‘পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদনের সময় সিসা, সালফিউরিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ মেয়াদে এগুলো মাটি, পানি ও বাতাস দূষিত করে এবং মানবদেহে সিসা জমে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে—বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি ক্ষতিকর।’
এ বিষয়ে কারখানার ম্যানেজার মো. হাবিব বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করছি। পরিবেশদূষণের অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করছি। কারখানার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।’
সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের সিসা শিল্পকারখানা চলতে পারে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কারখানার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’