গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ঈদের সপ্তম দিনে সূর্য ভিআইপি বাস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যাত্রীদের মাঝপথে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসানগঞ্জ খুজিয়ার মোড়ে অবস্থিত বাস কাউন্টারে এই ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বিগুণ টাকায় টিকিট কেটেও কর্মস্থলে ফিরতে না পারায় ছোটাছুটি করছেন যাত্রীরা। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির সহযোগিতাও চাচ্ছেন তাঁরা। সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন অনেকে। তবু আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় মাঝপথে নামা ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবার ঈদেই এ ধরনের নৈরাজ্য করেন কাউন্টারের মালিক মো. আবদুল কুদ্দুস। যাত্রীদের জিম্মি করে ভাড়ার চাইতে দুই-তিনগুণ বেশি টাকা নেওয়ার ঘটনা গত বছরের ঈদেও করেছেন তিনি। দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরাও থাকেন ভয়ে। কিছু বললেই ভয়ভীতি দেখান তাঁদের। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে যাত্রীদের ওপর এ ধরনের জুলুম চলে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকাগামী গার্মেন্টস কর্মী মোছা. রাশিদা বেগমের (৩০) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সূর্য কাউন্টারে টিকিট করেছিলাম গত ১৯ তারিখে। বাসে উঠে দেখি আমার সিটে আরেকজন বসে আছেন। পরে ওখান থেকে আমাকে অন্য সিটে বসিয়ে দেন। এরপরে দেখি আরও দুই-তিনজন যাত্রী এসে বলে, এই সিট আমাদের। বিষয়টি আমরা কাউন্টারে বলি। তখন তাঁরা জোর করে সবাইকে ওই বাসে পাঠিয়ে দেন। বাধ্য হয়ে আমরা দাঁড়িয়েই ঢাকা যাচ্ছিলাম। পরে তাঁরা আমাদের বামনডাঙ্গায় নামিয়ে দেন। নিরুপায় হয়ে আমরা আবারও হাসানগঞ্জ বাস কাউন্টারে চলে এসেছি। কাউন্টারের মালিক এখন আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। ৫০০ টাকার টিকিট ১ হাজার ৪০০ টাকা নিয়েছেন। তবু ঢাকা যেতে পারছি না। সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি থাকবে না।’
আরেক যাত্রী মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘৫০০ টাকার টিকিট ১ হাজার ৪০০ টাকা নিয়েছেন সূর্য কাউন্টারের লোকজন। টিকিট কেটেছি গত ২০ তারিখে। গাড়ি ছাড়ার সময় ছিল আজকে (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৭টায়। এসে দেখি আমার সিটের পাশে অনেক লোকের গ্যাঞ্জাম। পরে আমাকে আমার সিট না দিয়ে পেছনের সিটে বসিয়ে দেন। নিরুপায় হয়ে রওনা দিই। পরে বামনডাঙ্গায় গিয়ে আমাকে নামিয়ে দেন।’
এ বিষয়ে কথা হয় বাস কাউন্টারের মালিক মো. কুদ্দুস শেখের (৫০) সঙ্গে। বামনডাঙ্গায় কিছু যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘১ হাজার ৪০০ করে না, ভাড়া নিয়েছি ১ হাজার ২০০ টাকা করে টিকিটপ্রতি।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে কাউন্টারের মালিক বলেন, ‘বাসমালিককে টিকিটপ্রতি ১ হাজার ১০০ করে টাকা দিতে হয়। এখানে আমার করার কিছুই নেই।’
বাসমালিকের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলিকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি অমানবিক। আপনার মাধ্যমে জানলাম।’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।