সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ করা পেট্রল গায়েবের অভিযোগ-সংক্রান্ত সংবাদ ‘ভুলভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান।
ইউএনও নুসরাত জাহান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেই জব্দ করা পণ্য ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে। পেট্রল দাহ্য হওয়ায় দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযানে জব্দ হওয়া ৩৭৬ লিটার পেট্রল প্রতি লিটার ১১৬ টাকা দরে বিক্রি করে মোট ৪৩ হাজার ৬১৬ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, ‘কয়েকটি গণমাধ্যমে ঘটনাটি ভুল ও অসত্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।’ ভোক্তাস্বার্থ রক্ষা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বিনসাড়া বাজারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে পেট্রল বিক্রি ও মজুতের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহ আলম মোল্লাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সে সঙ্গে তাঁর দোকান থেকে দুটি ড্রামে রাখা পেট্রল জব্দ করা হয়।
পরে জব্দ করা পেট্রল নিকটবর্তী খালকুলা নর্থবেঙ্গল সমবায় ফিলিং স্টেশনে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে ট্যাংকের সমস্যার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। এতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্থানীয় চাহিদা বিবেচনায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পেট্রল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন। জব্দ পেট্রল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ও জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, জব্দ করা দুই ড্রাম পেট্রলের মধ্যে একটি খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনে জনপ্রতি এক লিটার করে বিক্রি করা হয় এবং অন্য ড্রামটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।