অনিরাপত্তা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে আসন্ন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বাগেরহাট-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (হরিণ প্রতিক) কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন তিনি। এর আগে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন বলে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন সতন্ত্র এ প্রার্থী। সংবাদ সম্মেলনে তার অনুসারী বিএনপির কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কাজী খায়রুজ্জামান শিপন বলেন, কয়েকদিন ধরে নেতাকর্মীসহ তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাকে বিদেশী নম্বর থেকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মজিদ জব্বারকেও হুমকী দেওয়া হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তার নিজের ও নেতাকর্মীদের জীবনের শঙ্কা রয়েছে। তাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ২০১৮ সালেও বিএনপির প্রার্থী ছিলাম। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য হুমকি-ধমকি অব্যাহত রাখা হচ্ছে। এমনকি জামায়াত প্রার্থীর অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় মনে করি মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। প্রশাসনের লোকজন আমাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করলেও, তারা পারেনি। এই অবস্থায় আমরা মনে করি প্রত্যন্ত (রিমোট) এলাকা মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা উপজেলায় সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাই আমরা নির্বাচনে প্রার্থীতার পদ থেকে সরে দাড়িয়েছি।’
উল্লেখ্য, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচন করার অপরাধে গত ২১ জানুয়ারি কাজী খায়রুজ্জামান শিপনকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির প্রার্থী সোমনাথ দে, জামায়াতের অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, ইসলামী আন্দোলণ বাংলাদেশের ওমর ফাকুর নূরী, জাতীয় পার্টির সাজন কুমার মিস্ত্রি ও জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল (জেএসডি) আব্দুল লতিফ খান নির্বাচন করছেন।