হবিগঞ্জের মাধবপুরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে জিডি দায়ের করে উল্টো ফেঁসে গেলেন এহসানুল হক (৪৫) নামে এক শিক্ষক। মিথ্যা হয়রানির জন্য ওই শিক্ষককে এক বছর এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এেক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ঝুমু সরকার এই দণ্ডাদেশ দেন। তবে শিক্ষক এহসানুল হক রায়ের সময় আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
এহসানুল হক ধর্মঘর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মৃত ইমতিয়াজ উদ্দিনের ছেলে এবং চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক।
হবিগঞ্জ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান কাজল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল একই গ্রামে কালিকাপুরের আব্দুল ওয়াহেদ ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে প্রাণহানির হুমকির অভিযোগ এনে শিক্ষক এহসানুল হক মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। কিন্তু অভিযোগটি পুলিশের তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
সাধারণ ডায়েরির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় বিচার দাবি করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দেবাশীষ তালুকদার। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অনুমতি দিয়ে ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট আদেশনামা থানায় পাঠান। সাক্ষী-প্রমাণ শেষে মঙ্গলবার শিক্ষক এহসানুল হককে উল্লিখিত কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়।
শিক্ষক এহসানুল হকের করা সাধারণ ডায়েরির তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন কাশিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই দেবাশীষ তালুকদার জানান, ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল আব্দুল ওয়াহেদের বিরুদ্ধে মাধবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন শিক্ষক এহসানুল হক।
ডায়রিতে এহসানুল হক অভিযোগ করেন, ওই দিন দুপুরে আব্দুল ওয়াহেদ ও তাঁর লোকজন শিক্ষকের বাড়ির সামনে এসে পুকুর থেকে মাটি উত্তোলনে বাঁধা দিলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। শিক্ষক যে পুকুরের কথা উল্লেখ করেছিলেন, তার মালিক আব্দুল ওয়াহেদ। তা ছাড়া তিনি ঘটনার সময় সিলেটে অবস্থান করছিলেন। এ ছাড়া তদন্ত করে ওই জিডিতে অভিযোগটি পুলিশের তদন্তে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। এরপর আব্দুল ওয়াহেদকে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানির জন্য আদালতে ২১১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।