হিন্দুধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে স্বর্গ থেকে আবির্ভূত হয়ে গঙ্গা ধরাধামে প্রবাহিত হয়েছে। তারা পাপ থেকে মুক্তি ও শান্তি লাভের আশায় প্রতিবছর গঙ্গাস্নান করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর তীরে স্নানোৎসবে মেতে উঠেছে হাজারো মানুষ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) গাইবান্ধার ফুলছড়ি, কামারজানি ও সুন্দরগঞ্জের তিস্তা নদীতে দিনভর এই স্নানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। স্নানের সময় ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরিতকি, ডাব, আমপাতা ইত্যাদি পিতৃকুলের উদ্দেশে নদের জলে অর্পণ করে।
আয়োজক গোষ্ঠীর শ্রী নির্মণ সরকারসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই নদীর পাড়ে তাঁরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছেন। এখানে জেলার সর্বস্তরের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০ হাজার পুণ্যার্থী অংশ নেয়। ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকার হিন্দুধর্মাবলম্বীরা পাপমোচনের জন্য পবিত্র মন্ত্র উচ্চারণ করে কলার নৌকায় ফুল-ফল ভাসিয়ে দেয় গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে। স্নান শেষে পুণ্যার্থীদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
বীরেন্দ্র চন্দ্র নামের এক ব্যক্তি বলেন, ভক্তগণের বিশ্বাস এ সময় ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান খুবই পুণ্যের, এ স্নানে ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভ করে পাপমোচন হয়। এই স্নানই অষ্টমী স্নান নামে অভিহিত। অধিকাংশ স্থানীয় লোকজনের বিশ্বাস, চৈত্রের অষ্টমীতে জগতের সব পবিত্র স্থানের পুণ্য ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হয়। নদীর পানি স্পর্শমাত্রই সবার পাপ মোচন হয়। যে এই পবিত্র পানিতে স্নান করে সে চিরমোক্ষ লাভ করে।
এদিকে, অষ্টমী স্নান উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় লোকজ পণ্য, শিশুদের খেলাধুলার জিনিসপত্র, কানমুচুরি, বাতাসা, জিলাপি, গুরের বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা।
গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, পঞ্জিকামতে চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ পবিত্র অষ্টমী স্নানে মেতে ওঠে। এ সময় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও যমুনা নদীর পাড়ে বহু ভক্তের সমাগম ঘটে। হিন্দুধর্মালম্বীর এই অষ্টমী স্নান উৎসবকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।