হোম > সারা দেশ > সুনামগঞ্জ

দিরাই-শাল্লা: সড়ক নির্মাণকাজে ধীরগতি

বিশ্বজিত রায়, সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা সড়কে নির্মাণকাজ করছেন শ্রমিকেরা। সম্প্রতি শাল্লা উপজেলার আনন্দপুর গ্রামে। ছবি: আজকের পত্রিকা

হাওর-অধ্যুষিত জেলা সুনামগঞ্জের যোগাযোগ বঞ্চনা দূর করতে দিরাই ও শাল্লা উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটি মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রকল্পের একটি অংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুনামগঞ্জ থেকে দিরাই-শাল্লা ও হবিগঞ্জ হয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে নবদিগন্তের সূচনা হবে। কিন্তু বহুল কাঙ্ক্ষিত এ প্রকল্পের কাজে ধীরগতি, নকশা অনুযায়ী কাজ না করা, ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ না দেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, দিরাই-শাল্লা এলাকার মানুষের এখনো ভরসা ‘বর্ষায় নাও, হেমন্তে পাও’। এখানকার মানুষের যোগাযোগ বঞ্চনা সুদীর্ঘকালের। জেলা কিংবা রাজধানী শহরে যেতে হাওরের দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয় তাদের। যাতায়াতে ভোগান্তির কারণে শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ হালের উন্নত সুযোগ-সুবিধা থেকে প্রায় বঞ্চিত তারা।

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিরাই উপজেলা থেকে শাল্লা উপজেলার দূরত্ব প্রায় ১৯ কিলোমিটার। এই দূরত্ব কমাতে সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০২২ সালের ২৮ জুন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। চার প্যাকেজে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ৬২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ২২ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৭ দশমিক ৩০ মিটার প্রশস্তের সড়কটিতে ১২টি সেতু ও ১৫টি কালভার্ট নির্মাণের কথা রয়েছে।

প্রকল্পের কার্যাদেশ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জন-জেবি কন্সট্রাকশন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কাজটি শুরু হয়। শেষ করার মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২৬ সালের জুনে। সওজ বিভাগের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির এখন পর্যন্ত ৫৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৪১ দশমিক ৪৬ শতাংশ কাজ। দুর্যোগ পরিস্থিতিসহ নানা কারণ দেখিয়ে সময়সীমা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের টেলিফোন বাজার অংশে মাটি ফেলছেন শ্রমিকেরা। এখান থেকে তলবাউসী, সন্তোষপুরসহ একাধিক গ্রাম হয়ে পুরোনো সড়কটির অবস্থান। গ্রামসংলগ্ন পুরোনো সড়ক থেকে টেলিফোন বাজারের বাঁ দিকে নেমে হাওরের মাঝ অংশ দিয়ে সড়ক ও সেতু নির্মাণ কার্যক্রম দেখা গেছে। তবে নকশাপরিপন্থী কাজ করে এখানকার মানুষদের মূল সড়ক থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ তুলেছেন।

দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের তলবাউসী গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমগীর মিয়া বলেন, ‘গ্রামের পাশ দিয়ে পুরোনো সড়কের ওপর দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা। কিন্তু টেলিফোন বাজার থেকে হাওরের মাঝ দিয়ে সড়কের কাজ চলছে। বিগত সময়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে অফিসের লোকজন সরেজমিনে এসে নকশা অনুযায়ী কাজের আশ্বাস দিয়েছেন; কিন্তু তা হচ্ছে না। এমনকি সড়কের স্বার্থে অনেকেই জায়গা ছেড়ে দিলেও কেউ ক্ষতিপূরণ পাননি। ভূমিমালিকদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে।’

শাল্লা উপজেলার উজান যাত্রাপুর গ্রামের বাসিন্দা সন্দীপন তালুকদার বলেন, ‘আমার জায়গা অধিগ্রহণ না করেই কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করে দিয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি আমি জায়গা-সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করেছি। আবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে প্রকৌশলী জানিয়েছেন।’

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাওরের মাঝ বরাবর একাধিক গ্রামের পাশ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নির্মিতব্য সড়কটি। কোনো কোনো অংশে মাটি ফেলা হচ্ছে, ব্লক তৈরি, ব্লক বসানো এবং সেতু নির্মাণের আনুষঙ্গিক কাজ করছেন শ্রমিকেরা।

শাল্লা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি তরুণ কান্তি দাস বলেন, সড়কটি বাস্তবায়িত হলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া হবে শাল্লা। কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে সড়কের কাজে ব্যবহৃত ইটের খোয়া, পাথর, বালুসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণসামগ্রীর মান ভালো নয়। এতে কাজ টেকসই হবে না।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জন-জেবি কন্সট্রাকশনের দিরাই-শাল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সুখরঞ্জন হালদার বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় বাধাবিঘ্ন ছিল। এ কারণে কাজ কিছুটা পিছিয়েছে।’

নকশা অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘টেলিফোন বাজারসংলগ্ন সড়কে নকশা পরিবর্তন-সংক্রান্ত ব্যাপারটি কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে এসে মীমাংসা করেছে। সব সমস্যা মোকাবিলা করে আমরা কাজটা দ্রুত শেষ করার জন্য চেষ্টা করছি।’

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, টেলিফোন বাজার থেকে পুরোনো সড়কের ওপর দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ সঠিক নয়। বাজার থেকে হাওরমুখী যে কাজ হচ্ছে, সেটা নকশা অনুযায়ীই হচ্ছে। আর ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি এ প্রকল্পে ধরা হয়নি। ভূমিসংক্রান্ত বিষয়টি পরিমার্জন করে নতুন প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা আছে।

আহাদ উল্লাহ বলেন, প্রকল্পটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকায়। বছরের অর্ধেক সময় এই এলাকা জলমগ্ন থাকে। চার-পাঁচ মাস কাজের সুযোগ পাওয়া যায়।

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি: অবাধে কাটা পড়ছে পাহাড়

সড়কে ১৪ প্রাণহানি: কবর ছুঁয়ে নিঃশব্দ কান্না

বাগেরহাটে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বাড়লেও দেশে প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

বরিশালে হাতাহাতিতে বৃদ্ধের মৃত্যু, আটক ৪

ভারতে ২ বছর জেল খেটে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি

জয়পুরহাটে ছেলের হামলায় বাবা নিহত, আহত মা-বোন

সিরাজগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি বিচার নিশ্চিত করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

ঈশ্বরদীতে মসজিদের পাশ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি উদ্ধার