মেহেরপুরের গাংনীতে গেল বছর টানা বৃষ্টিতে বামন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। খেলার মাঠ পরিণত হয়েছিল বিশাল জলাশয়ে। এতে শিক্ষার্থীদের যেমন পাঠদান ব্যাহত হয়েছিল, তেমন খেলার কোনো জায়গা না পাওয়ায় তাদের মনও খারাপ ছিল। এদিকে শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল দৈনিক আজকের পত্রিকায়। তখন সংবাদটি নজরে আসে কর্তৃপক্ষের। এরপরেই বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেয় উপজেলা প্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, ইতিমধ্যে মাটি ফেলার কাজ শেষ। চলছে মাঠে মাটি সমান্তরালের কাজ।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আট টন চাল (যার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা) বরাদ্দ দিয়ে মাঠটি ভরাট ও সমান করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মমতাজ বেগম বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে এত জলাবদ্ধতা হয়েছে যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আতঙ্কে ছিলাম। কাজ দ্রুত করায় কর্তৃপক্ষ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়ার ভাষ্য, ‘গত বর্ষায় আমরা দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতার মধ্যে ক্লাস করেছি। এখন মাঠে মাটি ভরাট হচ্ছে দেখে খুব ভালো লাগছে। সবাই আবার খেলাধুলা করতে পারব।’
প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে একটি ক্লাসরুমও বন্ধ ছিল। কাজ শুরু হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা আবার নিরাপদে খেলাধুলা করতে পারবে। সংবাদ প্রকাশের পরই বিষয়টি দ্রুত সমাধান হয়েছে।’
স্থানীয়রা জানান, গত বছরের জুন থেকে শুরু হয়ে আগস্ট মাস পর্যন্ত বৃষ্টিতে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে চরমভাবে পাঠদান ব্যাহত হয়। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ‘গাংনীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চার মাস ধরে জলাবদ্ধতা, পাঠদান ব্যাহত’ এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল আজকের পত্রিকায়। এরপরই মূলত গাংনী উপজেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মাঠ মেরামত করে দিচ্ছে।