নির্বাচনের পর কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বিএনপি নেতার বাড়িতে লুটপাট-অগ্নিসংযোগের মামলায় হাসান জিহাদী (২৫) নামের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ রোববার কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রাজারহাট আমলি আদালতের বিচারক এই আদেশ দেন।
এর আগে হাসান জিহাদীসহ মামলার এজাহারনামীয় সব আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত অভিযোগের মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে জিহাদীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে অপর আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) হাবিব এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
হাসান জিহাদী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের পশ্চিম দেবোত্তর গ্রামের বাসিন্দা রাজেকুল ইসলামের ছেলে।
জানা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে হাসান জিহাদীসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলার অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় হাসান জিহাদী ২ নম্বর আসামি।
সূত্রে আরও জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন জামায়াত ও এনসিপির নেতা-কর্মীরা।
খলিলুর রহমান রুকু, হাসান জিহাদীসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা বাদী শহিদুল ইসলাম ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। এ সময় হাসান জিহাদী বিএনপি নেতা শহিদুলের বাড়ির টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। ঘটনার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম রাজারহাট থানায় হাসান জিহাদীসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
এ বিষয়ে জিআরও হাবিব আজকের পত্রিকাকে বলেন, মামলার সব আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। অন্য আসামিদের জামিন হলেও লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের গুরুতর অভিযোগ থাকায় হাসান জিহাদীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
অপর দিকে অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে বিষয়ে জানতে চাইলে রাজারহাট থানার উপপরিদর্শক আতিকুল ইসলাম বলেন, এটি রাজনৈতিক বিষয়, একটু সময় লাগবে।