হোম > সারা দেশ > কুমিল্লা

গোমতী নদীর চর: বেপরোয়া মাটিখেকোরা

দেলোয়ার হোসাইন আকাইদ, কুমিল্লা 

কুমিল্লায় গোমতীর পাড়ের মাটি কেটে নেওয়ায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি পাঁচথুবী এলাকা থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুমিল্লার গোমতী নদীর চর ও বাঁধসংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা চলছেই। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র প্রকাশ্যে খননযন্ত্র ও ট্রাক দিয়ে নদীর মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। মামলা-হুঁশিয়ারির কোনো তোয়াক্কায়ই করছেন না তাঁরা।

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার গোমতী নদীর দুই পাড়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাটিখেকোরা। মাটি কাটার ব্যাপকতাও বেড়ে গেছে। টিক্কারচর ব্রিজ, শাওয়ালপুর, গোলাবাড়ী, সামারচর, রত্নাবতী, বানাশুয়া, পালাপাড়াসহ শতাধিক স্থানে চরের মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে চরের গাছপালাও উজাড় করা হচ্ছে। ব্যাপক হারে মাটি কাটায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, বাঁধের স্থিতিশীলতা ও কৃষিজমি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনিক তৎপরতা কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ থাকায় অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুমিল্লা বিভাগের আওতাধীন আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের গোলাবাড়ী, শাহপুর, চানপুর ও সালধরসহ গোমতী নদীর বিভিন্ন চর এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগে ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। গত ১৭ ডিসেম্বর সরেজমিন পরিদর্শনে অবৈধ মাটি কাটার সত্যতা পাওয়ার পর কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।

অভিযোগে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গোলাবাড়ীর মো. রিপন, ছাওয়ালপুরের আবুল খায়ের ও আবুল হোসেন, ঝাড়খন্ডোর মমিন মিয়া, শাহপুরের শামীম ও লিটন, চানপুরের খোরশেদ আলম সুমন, শাহজাহান মিয়া, এনায়েত হোসেন ও মোর্শেদ, আমড়াতলীর শহীদ মিস্ত্রি, কালিকাপুরের মারুফ মিয়া, শ্রীপুর মাঝিগাছার আলম মিয়া, কুমিল্লা সিটির সংরাইশ পশ্চিমপাড়া এলাকার শাহাদাত হোসেন, শুভপুরের জুয়েল রানা এবং ছোটরার শামীম হকসহ আরও কয়েকজন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই সংঘবদ্ধভাবে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মাটি উত্তোলনে জড়িত।

কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, পাউবো লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

এদিকে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী নদী রক্ষায় নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সাধারণত মাটি বহনকারী শ্রমিক বা চালকদের পাওয়া যায়, মূল হোতারা অধরাই থেকে যায়। তাই নিয়মিত মামলা করে মূল ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নদী রক্ষা সম্ভব নয়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘গোমতী হোক বা অন্য কোথাও—১ ইঞ্চি মাটিও কেউ কাটতে পারবে না।’

কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশীদ সম্প্রতি কুমিল্লা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় গোমতী নদীর চর ও তীরবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা জানান।

রাজধানীর ঈদ বাজার: সীমিত বাজেটে পরিবারের সদস্যদের ঈদের খুশি

নারী দিবস: পাপড়ির হাত ধরেই জীবনে এল গতি

বান্দরবানের থানচি: সাঙ্গুর পাথর অবাধে লুট

ভোলার চরফ্যাশন: সেচের টানে খাবার পানিশূন্য নলকূপ

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক: এলিভেটেডের কাজে ঈদে দুর্ভোগের শঙ্কা

আসামি জামিনে বেরিয়ে ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি

চট্টগ্রামে অবৈধ মাটি কাটা নিয়ে বিএনপি-ছাত্রদলের সংঘর্ষ, আহত ৮

ফিলিং স্টেশনে তেল কিনতে যাওয়া যুবককে পিটিয়ে হত্যা

পাবনায় জামায়াত নেতার পাম্পে অভিযান, ৯০ হাজার টাকা জরিমানা

বিএনপি-জামায়াত হাতাহাতির মধ্যে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু, মহাসড়ক অবরোধ