চট্টগ্রামের পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে সরকারি নীতিমালা ও নির্দেশনা মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার বড়ুয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ভর্তি-বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দিদারুল আলম নামের এক অভিভাবক।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৩০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পনা থাকলেও গত ১৪ ডিসেম্বর লটারির মাধ্যমে ২২০ জনকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। পরে কোনো সুস্পষ্ট কারণ কিংবা লিখিত নীতিমালা ছাড়াই ২৫ ডিসেম্বর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৮৮ জন শিক্ষার্থীর একটি ‘অপেক্ষমাণ তালিকা’ প্রকাশ করে। এই তালিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে দিদারুল আলম অভিযোগ করেন, এই অপেক্ষমাণ তালিকা মেধা বা লটারির ভিত্তিতে করা হয়নি বরং এতে ব্যক্তিগত প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মনোনীত শিক্ষার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চিঠিতে দিদারুল আলম অভিযোগ করেন, বিশ্বস্ত সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে প্রতি শিক্ষার্থী ভর্তিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার বড়ুয়া এই আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দিদারুল আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ভর্তিতে অনিয়ম ও তালিকার বাইরে ভর্তির বিষয়ে তাঁর কাছে প্রমাণ রয়েছে।
পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল কান্তি নাথ বলেন, ‘ভর্তির বিষয়ে ইউএনও মহোদয় অবগত। প্রথম তালিকা লটারির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় এবং দ্বিতীয় একটি তালিকা থেকে আরও কিছু ভর্তি করা হয়। এই দুই তালিকার বাইরে কেউ ভর্তি হয়ে থাকলে সেটি অনিয়ম হয়েছে। তবে অনিয়মের বিষয়ে কেউ আমাকে লিখিতভাবে জানাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জানতে চাইলে পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার বড়ুয়া বলেন, চলতি ভর্তি কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। অপেক্ষমাণ তালিকার বাইরে কোনো ছাত্রকে ভর্তি করানো হয়নি।