মাদারীপুরের রাজৈরে একটি চুরির ঘটনায় সালিসে ডেকে নিয়ে ফল ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় আহত হয়েছে পাঁচজন। এ ঘটনার পর অভিযুক্তদের বসতঘরে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জাকির শেখ (৬০) রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের নুর জামান শেখের ছেলে। তিনি রাজৈর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফলের ব্যবসা করতেন। এদিকে ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন অভিযুক্তরা।
পুলিশ, স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকার রাসেল ব্যাপারীর বসতঘরে সম্প্রতি চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একই এলাকার মজিদ খানের পরিবারের সঙ্গে মঙ্গলবার সকালে সালিসের আয়োজন করেন এলাকার স্থানীয় মাদবরেরা। সেখানে রাসেলকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ সময় রাসেলকে বাঁচাতে গিয়ে নারীসহ চারজন আহত হয়। পরে আবার সালিসের কথা বলে আহত রাসেলের শ্বশুর জাকির শেখকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে জাকির শেখ তাঁর জামাইয়ের বাড়িতে আসেন। এ সময় জাকির শেখকেও কুপিয়ে জখম করে অভিযুক্ত মজিদ খান ও তাঁর লোকেরা। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাকির শেখকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর নিহতের আত্মীয়স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত মজিদ খান ও তাঁর ছেলেদেরসহ তিনটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহত রাসেল ব্যাপারী বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপরে হামলা করেছে মজিদ খান ও তার লোকজন। সালিসির নামে ডেকে নিয়ে তারা আমার শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা করে। সামান্য চুরির বিষয়টি নিয়ে এভাবে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা হবে, সেটা বুঝতে পারিনি। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দোষীদের ধরতে এরই মধ্যে পুলিশ কাজ করছে। এ ছাড়া এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’