চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া মাত্র দেড় বছর আগে র্যাবে যোগদান করেছিলেন। এর আগে তিনি বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২-এর নায়েব সুবেদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গতকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম অঞ্চল জঙ্গল সলিমপুরে চিহ্নিত এক সন্ত্রাসীকে ধরতে অভিযানে যায় র্যাবের একটি দল। সেখানে ওই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে মাইকে ঘোষণা দিয়ে র্যাবের গাড়ির বহরে হামলা চালানো হয়। সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা ও তিনজনকে জিম্মি করে রেখেছিল। পরে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রামে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে র্যাবের এই কর্মকর্তার নিহতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল থেকেই নেটিজনদের কাছে আলোচনায় ছিল চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি নিয়ে।
ফেসবুকে নিহত কর্মকর্তার ছবি দিয়ে শত শত পোস্ট দিয়ে ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে। নেটিজনরা সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন, একই সঙ্গে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান পরিচালনা করার দাবি তোলেন। অনেকেই তাঁকে বীর শহীদ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
নেটিজনদের আরেকটি অংশ নিহত এই কর্মকর্তার কর্মজীবনের নানা ভালো কাজের প্রশংসা করে পোস্টও দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামে পতেঙ্গায় র্যাব-৭ সদর দপ্তরে নিহত মোতালেবের প্রথম জানাজা হয়। ওই জানাজায় নিহতের স্ত্রী ও তাঁর তিন সন্তানও অংশ নিয়েছিলেন।
সেখানে একটি ছোট মেয়ে তাঁর বাবার কফিনের মরদেহের সামনে কান্নাকাটি করার বেশ কয়েকটি ছবি ও ভিডিও মঙ্গলবার বিকেল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
মেয়েটির নাম ইসরাত জাহান মুনতাহা। সে নিহত মোতালেবের সবার ছোট মেয়ে। ওই মেয়েটি বাবার কফিনের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিল, ‘আমার বাবা মাটির নিচে কেমনে থাকবে, আমার বাবার কী দোষ ছিল, কেন তাঁকে এভাবে মারা হলো? আমার বাবা মাটির নিচে থাকবে কেমনে?’
চাকরির শেষজীবনে এসে এই কর্মকর্তার এমন পরিণতি মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। অনেকে আবেগঘন পোস্টও করেছেন।
ফেসবুকে ইউসুফ শান্ত নামে একজন নিহত মোতালেবের গ্রামের বাড়িতে নির্মাণাধীন একটি বাড়ির ছবি পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ‘চাকরি শেষে অবসরে এ বাড়িতে উঠার স্বপ্ন ছিল তার। প্রায় ২৮ বছরের চাকরি জীবনের আয় থেকে একটু একটু জমানো টাকা দিয়ে কাজটুকু করছিলেন। ৮ ভাই, ৩ বোনের সবার ছোট ও আদরের ছিলেন তিনি। দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা তিনি। দুদিন আগেও বাড়ি এসে কাজ দেখে গিয়েছিলেন।’
মোতালেবের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা সদর জেলার অলিপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আব্দুল খালেক ভূঁইয়া।
তাঁর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী মোছা. সামসুন্নাহার, এক ছেলে মেহেদী হাসান ও দুই মেয়ে শামিমা জান্নাত ও সবার ছোট ইসরাত জাহান।
১৯৯৫ সালে বিডিআরে (বাংলাদেশ রাইফেলস) যোগদান করেন। তাঁর সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল টেকনাফ ব্যাটালিয়নে। সেখান থেকে ২০২৪ সালে ২৬ এপ্রিল মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া র্যাবে যোগদান করেন।