ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে অন্তত ১৬টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিভাগের অন্য আসনগুলোর মধ্যে ১৭টিতে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। আর জামায়াতের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন ৬টি আসনে। ৮ জেলার মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে এমন হিসাবই পাওয়া যাচ্ছে।
জামায়াতের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বিদ্রোহী প্রার্থী কিংবা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ১৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন ও জামায়াতের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান; রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বিদ্রোহী ইসফা খায়রুল হক শিমুল ও রেজাউল করিম এবং জামায়াতের প্রার্থী মনজুর রহমানের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে জানিয়েছেন ভোটারেরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট) আসনে বিএনপির আমিনুল ইসলাম ও জামায়াতের মু. মিজানুর রহমানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধারণা করা হচ্ছে। এ আসনে বিএনপির কোন্দল প্রকট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনেও বিএনপির হারুনুর রশীদ ও জামায়াতের নুরুল ইসলাম বুলবুলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমীন। এখানে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী তাইফুল ইসলাম টিপু। তাই ফুরফুরে মেজাজে আছেন জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুরও ঘাম ঝরাচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী ইউনুস আলী।
নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে রয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী দাউদার মাহমুদ। এখানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির জার্জিস কাদির। এই তিন প্রার্থীর মধ্যে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী। এই বিদ্রোহী প্রার্থীর জন্য চিন্তায় ফজলে হুদা। নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে জামায়াতের অবস্থান শক্ত। এখানে বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলু জামায়াতের আবু সাদাত মো. সায়েমের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে যাচ্ছেন।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনে রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আলমগীর কবির। তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকার। তাঁর সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে বিএনপির শেখ মো. রেজাউল ইসলামকে। বাড়তি চাপ হিসেবে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী খবিরুল ইসলাম।
দলের দুর্গ হিসেবে বিবেচিত বগুড়ার ৭টি আসনের মধ্যে তিনটিতে এবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বিএনপি। এর মধ্যে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম ও জামায়াতের মো. শাহাবুদ্দিন; বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে আব্দুল মহিত তালুকদার ও জামায়াতের নূর মোহাম্মদ এবং বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপির মোশারফ হোসেন ও জামায়াতের মোস্তফা ফয়সালের লড়াই হবে।
এসব আসনে চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, ‘কিছু এলাকা জামায়াত-অধ্যুষিত। আবার কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। তাই চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। তবে যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন, তাঁদের বোঝানো হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত তাঁরা যেন ভোটের মাঠ থেকে সরে যান।’
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন প্রবীণ নেতা এম আকবর আলী। ভোটাররা বলছেন, সেখানে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনেও বিএনপির আমিরুল ইসলাম খান ও জামায়াতের আলী আলমের মধ্যেও তীব্র লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী দলের প্রয়াত আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান। তাই বিএনপির প্রার্থী শামসুর রহমানকে পড়তে হচ্ছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
বগুড়ার দৈনিক সাতমাথা পত্রিকার সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী জোনের পরিচালক। তিনি নিজেও বগুড়া-১ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় হয়তো আমরা আগে থেকে পৌঁছাতে পারিনি, সেসব স্থানে আমাদের সাংগঠনিক অবস্থান কিছুটা দুর্বল। কিন্তু এখন আমরা সবাইকেই দাওয়াত দিচ্ছি। রাজশাহী জোনে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। গোটা উত্তরবঙ্গেই আমাদের অবস্থান ভালো। যে দু-একটা আসনে দুর্বলতা আছে, সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।’