যুবদল নেতা আরিফ হত্যা মামলার পর এবার জুলাই আন্দোলনে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ভাটারা থানায় দায়ের হওয়া এ মামলায় আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
খাদিজাকে আজ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই হাসানুজ্জামান তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
গত ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা কারাগারের সামনে থেকে বিথীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে যুবদল নেতা আরিফ হত্যার ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানার এক মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
নতুন যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেটি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় নতুন বাজার এলাকায় সজীব খানকে হত্যাচেষ্টা মামলা।
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, খাদিজা ইয়াসমিন বিথি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাকে একাধিকবার ভাটারা থানা এলাকার আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলতে দেখা যায় মর্মে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আসামি এ মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আছে মর্মে তদন্তে প্রতীয়মান হচ্ছে। এমতাবস্থায় তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ভাটারার নতুন বাজার ব্রিজের নিচে মো. সজীব খান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। এ সময় আওয়ামী লীগের ১৫০–২০০ জন সন্ত্রাসী লাঠি, লোহার রড, হকিস্টিক এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে। তারা সজীবসহ মিছিলে অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্র-জনতার ওপর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করে এবং ককটেল, হাতবোমা ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। এতে অনেকে হতাহত হন। সজীবের বাঁ হাতে এবং শরীরে বিভিন্ন জায়গায় গুলি লাগে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পর সজীব খান গত বছরের ১৪ মার্চ ভাটারা থানায় মামলা করেন।
উল্লেখ্য, সুব্রত বাইনও অস্ত্র মামলাসহ আরিফ হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন।