হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

ফরিদপুরে বাজার নিয়ন্ত্রণ ঘিরে সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ, আহত অন্তত ২০

ফরিদপুর প্রতিনিধি

সংঘর্ষ ১ একপক্ষের দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে অপরপক্ষের লোকজন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরে একটি বাজারের নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে স্থানীয় দু-পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ, দুটি বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া, অন্তত ১২টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড়খারদিয়া, নটখোলা ও পাশ্ববর্তী বোয়লমারী উপজেলার ময়েনদিয়া গ্রামবাসীর মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষ ২ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছবি: আজকের পত্রিকা

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ সংঘর্ষে একপক্ষের নেতৃত্ব দেন বড়খারদিয়া গ্রামের যুদ্ধাপরাধের মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী আবুল কালাম আজাদের ছেলে জিহাদ মিয়া ও স্থানীয় বাসিন্দা টুলু মিয়া। তাঁরা বর্তমানে ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপির নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলামের অনুসারী। এ ছাড়া অপরপক্ষের নেতৃত্ব দেন বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর এবং তাঁর অনুসারী নটখোলা গ্রামের মজিবুর সরদার, মঞ্জু মাতুব্বর ও তারা মিয়া। তাঁদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং বর্তমানে ফরিদপুর-১ আসনের পরাজিত বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের অনুসারী।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বোয়ালমারী উপজেলার ও সালথা উপজেলার সীমান্তবর্তীতে অবস্থিত ময়েনদিয়া বাজার। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বাজারটির নিয়ন্ত্রণ করতেন মান্নান মোল্যা এবং ৫ আগস্টের পর বাজারটির নিয়ন্ত্রণ নেন জিহাদ মিয়া ও টুলু মিয়া। এরপর নির্বাচনের আগেরদিন এলাকায় ফিরে আসেন মান্নান মাতুব্বর এবং বাজার পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নেন। এর জের ধরে গতকাল শুক্রবার রাতে তাঁদের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে আজ সকালে মান্নান মোল্যার অনুসারী নটখোলা গ্রামবাসীদের ময়েনদিয়া বাজারে আসতে বাঁধা দেন হয় জিহাদের সমর্থকেরা। এরপরই তাঁদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ময়েনদিয়া বাজারের ব্যবসায়ী ও নটখোলা গ্রামের জাকির খান ও তাঁর অপর এক ভাইয়ের দুটি বসতবাড়িতে ককটেল ফাটিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া একই গ্রামের ১২টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটসহ তান্ডব চালায় জিহাদ মিয়ার অনুসারীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত নটখোলার বাসিন্দা ও জাকির খানের মা জাহানারা বেগম জানান, হামলাকারীরা হঠাৎ করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে ঢুকে ভাংচুর চালায় এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঘরের আসবাবপত্র, মালামালসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এ ছাড়া ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকেই আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা-নগরকান্দা) সার্কেল মাহমুদুল হাসান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ময়েনদিয়া ও খারদিয়ার দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ বাঁধে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করা হয়। অভিযান অব্যাহত আছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কচুয়ায় চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ২

বাবা-মায়ের চোখের সামনে ঝরে গেল ছোট্ট সোহার প্রাণ

সিরাজগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৭

নতুন সরকারে কিশোরগঞ্জ পেতে পারে দুই মন্ত্রী

দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় পাবনায় হামলা-লুটপাটের অভিযোগ

ভালোবাসা দিবসে জাঁকজমক আয়োজনে প্রিয় শিক্ষককে বিদায়

যশোরে মধ্যরাতে পার্কিং করা বাসে আগুন

আসন্ন সরকারের কাছে উদীচী-ছায়ানট-গণমাধ্যমে হামলার দ্রুত বিচার দাবি

কাঠালিয়ায় জামায়াত সমর্থকদের বাড়ি ও ব্যবসায় হামলা-ভাঙচুর

টঙ্গিবাড়ীতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু