স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পাঁচ দিন পর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বাগেরহাটের নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম। কারাগারে জামিনের আদেশ আসার পর আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা ২টার দিকে তিনি মুক্তি পান।
যশোর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যেষ্ঠ জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আসিফ উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত সোমবার হাইকোর্টে মানবিক বিবেচনায় সাদ্দামের ছয় মাসের জামিন আবেদন মঞ্জুর হয়। তিনি ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাটের বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁর স্ত্রী স্বর্ণালীর ঝুলন্ত লাশ এবং পাশ থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ সাদ্দামকে শেষবারের মতো দেখানোর জন্য যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকের সামনে নিয়ে যান তাঁর স্বজনেরা। কারা কর্তৃপক্ষ মানবিক বিবেচনায় পাঁচ মিনিটের জন্য সাদ্দামকে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে দেখার সুযোগ দেয়। এ ঘটনায় তাঁর প্যারোলে মুক্তি না পাওয়া নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় সাদ্দামের সন্তান জন্মগ্রহণ করে।
সাদ্দামের স্বজন ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। বাগেরহাট কারাগার থেকে তাঁকে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করে কারা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সাদ্দামের মুক্তির তথ্য জানতে স্থানীয় সাংবাদিকদের দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারাফটকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। সন্ধ্যার আগপর্যন্ত কারা কর্তৃপক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের মুক্তির বিষয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য মেলেনি। কারাফটকের বাইরে থেকে বারবার কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা কোনো সাড়া পাননি।
সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কারাগারের অতিরিক্ত দায়িত্বরত কর্মকর্তা আসিফ উদ্দীন বলেন, দুপুরে সাদ্দামের মুক্তি হয়ে গেছে। সব আইনিপ্রক্রিয়া শেষে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তথ্য জানাতে কারা কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ উদ্দীন জেলারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
এ বিষয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদের মোবাইল ফোনে কয়েক দফা কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।
আজ সন্ধ্যার দিকে সাদ্দামের ভাই শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি জানান, প্রশাসন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেছে। সাদ্দাম সন্ধ্যায় বাড়ি পৌঁছানোর পর তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত করেছেন। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।