রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী থাকা সাবেক এমপি আসাদুজ্জামান আসাদ ও এনামুল হক আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেননি। তাঁরা ভোট প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
আসাদুজ্জামান আসাদ রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) ও এনামুল হক রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের এমপি ছিলেন। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার মামলায় তাঁরা এখন কারাগারে আছেন। কারা কর্তৃপক্ষ তাঁদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এ দুই ভিআইপি বন্দী।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, এখানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন বন্দী থাকেন। তাঁদের মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন মাত্র ২৭৩ জন। নাম-ঠিকানা, সংসদীয় আসনসহ সব তথ্য সঠিক থাকায় ২০৪ জনের নামে ব্যালট এসেছিল। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়া শুরুর পর থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত তাঁরা ভোট দিয়েছেন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করা ২০৪টি ব্যালট পোস্ট অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারাগারের প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন বন্দীর মধ্যে অর্ধেক সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি। আর বাকি অর্ধেক বিচারাধীন মামলায় বন্দী থাকা হাজতি। কয়েদিদের একটি বড় অংশই দীর্ঘদিন ধরে বন্দী আছেন। তাই তাঁদের অনেকে ভোটার হতে পারেননি। এ জন্য তাঁরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করতে পারেননি। আবার নিয়ম রয়েছে, কেউ কারাগারের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করার পর জামিন হলে পরে আর বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। সে কারণেও অনেক হাজতি ও কয়েদি ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেননি।
সাবেক দুই সংসদ সদস্যের ভোট না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, ‘আমরা সবাইকেই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। যাঁরা যাঁরা ইচ্ছুক, নাম নিবন্ধন করেছিলেন। বন্দী থাকা সাবেক দুই এমপি ভোট দিতে চাননি। আমরা তো কাউকে জোর করব না। তাঁরা নিজেরা চাননি বলে ভোট দেননি।’ তিনি বলেন, ‘সব বন্দীই মনে করেন, তাঁর জামিন হয়ে যাবে। এ কারণে অনেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নাম নিবন্ধন করেননি। সাবেক দুই এমপি কেন করেননি, তা তাঁরা জানেন।’