বরগুনার তালতলীতে একটি সরকারি খাল খননে জটিলতা দেখা দিয়েছে। খালের জমি স্থানীয় এক ব্যক্তির দখলে থাকায় এ জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি স্থানীয় কৃষকেরা খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া এলাকার সুন্দরিয়া শাখাখালটি ভরাট হয়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ওই খালের জমি স্থানীয় একজন প্রভাবশালী নিজেকে ভূমিহীন সাজিয়ে ডিসিআর নিয়ে ভোগদখল করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ফারুক মিয়া। স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে ওই জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত নেন তিনি। নিজের নামে খালের ১ একর জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত থাকার কারণে ওই ব্যক্তি আদালতের মাধ্যমে খালটির খননকাজে নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করান বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে চলতি শুকনো মৌসুমে ওই এলাকায় দেখা দিয়েছে সেচের পানির তীব্র সংকট। খাল খনন না করায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।
এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৭ হাজার ৫৫২ দশমিক ৫ মিটার খাল খননের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বরগুনা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তর। সেগুলো হলো— নলবুনিয়া খাল, চিলু মাঝির খাল, সুন্দরিয়া খাল, সুন্দরিয়া শাখাখাল, তাঁতীপাড়া খাল, চামোপাড়া খাল, মৌরাবির খাল, বথিপাড়া খাল ও পাওয়াপাড়া-মাওয়াপাড়া খাল। প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৩ টাকা ব্যয়ে এই ৯টি মরা খাল পুনঃখননকাজ শুরু করে এলজিইডি। তবে সুন্দরিয়া শাখাখালটির ১ একর জমি ফারুক মিয়ার দখলে থাকায় খননকাজ শুরু করতে পারছে না সরকারি সংস্থাটি।
বন্দোবস্ত (ডিসিআর) নেওয়া নথিপত্রে দেখা গেছে, ছোট নিশানবাড়িয়া মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ২৬৪৪ ও ২৬৭৬ খতিয়ানের ১ একর জমি ১৯৯৯ থেকে ২০৯৮ সাল পর্যন্ত ৯৯ বছরের জন্য নলবুনিয়া গ্রামের ফারুক মিয়াকে বরাদ্দ দেন তৎকালীন (১৯৯৯ সাল) আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার মো. নূরুজ্জামান শরীফ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পলি জমে সুন্দরিয়া খালটি ভরাট হয়ে বর্তমানে সরল জমিতে রূপান্তর হয়েছে। ফলে শুকনো মৌসুমে এই এলাকার শত শত একর ফসলি জমি অনাবাদি থাকে। শুধু বৃষ্টির সময় এখানের কৃষকেরা ফসল ফলান। কৃষকদের দাবি, দ্রুত খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করা হোক। এতে এক ফসলি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে।
স্থানীয় কৃষক জামাল খানসহ কয়েকজন বলেন, ফারুক মিয়া নিজেকে ভূমিহীন দেখিয়ে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে ক্ষমতার বলে সরকারি খাল ডিসিআর (বন্দোবস্ত) নিয়েছেন। কৃষকেরা চান, ভূমি অফিস জনস্বার্থে এই ডিসিআর বাতিল করবে।
অভিযুক্ত ফারুক মিয়া বলেন, ‘আমি আদালতের মাধ্যমে খননকাজে স্টে অর্ডার এনেছি। আমাকে এই জায়গার ডিসিআর দিয়েছে সরকার। এখন সরকার যদি চায় তাহলে নিয়ে নেবে।’
এ ব্যাপারে জানতে তালতলী উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি কর্মকর্তা) ফোন করা হলে তিনি ছুটিতে থাকায় কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. আবুল বাশার বলেন, ‘ফারুক মিয়া নিজেকে ভূমিহীনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি খালের জমি ডিসিআর নিয়েছেন। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তাঁর নিজের নামে অনেক জমি রয়েছে। এই জমি সরকারি নথিতে খাস খতিয়ানের খাল শ্রেণিতে রয়েছে।’
তালতলী উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নলবুনিয়া এলাকায় ৯টি খাল খননকাজ চলছে। অনেক খালের খননকাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এ খালগুলো খননের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য ও কৃষিকাজে উন্নয়ন সাধিত হবে এবং এসব এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। তবে নলবুনিয়ার সুন্দরিয়া নামক শাখাখালটি খননকাজে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ওই অংশে খননকাজ বন্ধ রয়েছে।