ঈদুল ফিতরের কেনাকাটার শেষ পর্যায়ে আতর-টুপির দোকানে ভিড় বেড়েছে। পছন্দের কাপড়, জুতা ও কসমেটিকস কেনা শেষে এখন আতর-টুপির দোকানে যাচ্ছেন মানুষ। একেবারে শেষ সময়ে ফুটপাতের আতর-টুপির দোকান জমে উঠেছে।
আজ বুধবার খুলনার ডাকবাংলো মার্কেটের আতর-টুপির দোকানে তরুণ-বৃদ্ধ ও সব বয়সী মুসল্লিদের ভিড় দেখা গেছে।
দোকানগুলোয় গিয়ে দেখা যায়, থরে থরে সাজানো রয়েছে দেশি-বিদেশি টুপি। এগুলো প্রায়ই পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছে। দেশি টুপিগুলোর মূল্য ১০০-১৫০ টাকা। আর পাকিস্তানি টুপিগুলোর মূল্য ২০০-৩০০ টাকা নির্ধারণ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে দোকান থেকে ফুটপাতে ভিড় বেশি পরিলক্ষিত হয়।
ডাকবাংলো বিপণিকেন্দ্রের রাশেদ জানান, এবার ঈদে ইউরো স্পোর্টস, স্ট্রংগার উইথ মি, বাখুর ও ভ্যামপার ব্লাড নামে চার প্রকারের সুগন্ধির চাহিদা বেশি। ৬ মিলির প্রতিটি শিশি ১২০-২০০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।
এসব আতর ভারত ও সৌদি আরব থেকে আমদানি করেছেন বলে জানান তিনি। এ ছাড়া বিকিকিনি বেশ ভালো। তবে ২৩ রমজানের পর থেকে বিক্রি বেড়েছে বেশি। এগুলোর সুগন্ধ তীব্র নয়, তবে অনেকক্ষণ থাকে। সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বেচাকেনা হয় তাঁর দোকানে।
একই মার্কেটের ব্যবসায়ী মাসুম জানান, এবার ঈদে সৌদি আরবের আফটার মি, খায়বার ও রওজার চাহিদা ব্যাপক। প্রতিটি ৩ মিলির এক শিশি ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। সব বয়সী মানুষের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে আফটার মি ও রওজা। এগুলোর ঘ্রাণ তীব্র নয়, তবে ২৪ ঘণ্টার মতো থাকে।
ক্রেতা আব্দুল আজিজ জানান, জামা-কাপড় কেনা শেষ। বাকি এখন টুপি ও সুগন্ধি। ছোট ভাই ও নিজের জন্য কিনতে এসেছি। কড়া ঘ্রাণ তাঁর পছন্দ, কিন্তু হালকা ঘ্রাণের আতর নেবেন। গত ঈদে একবার নিয়েছেন তিনি। কিন্তু সাইজের তুলনায় দাম একটু বেশি বলে জানান।
সৈয়দ ওয়ালিদ তাঁর বাবা ও ভাইকে সঙ্গে নিয়ে দিঘলিয়া থেকে এসেছিলেন সুগন্ধি কিনতে। ভ্যামপার ব্লাড সুগন্ধি তাঁর পছন্দের। এটি ইউনিক। গন্ধ দীর্ঘস্থায়ী। সুগন্ধি মেখে ঈদের জামাত আদায় করবেন। বন্ধুদের কাছ থেকে শুনে এটি ক্রয় করছেন তিনি।
বড় বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশি-বিদেশি পাঁচ-সাতটি কোম্পানির টুপি রয়েছে তাঁর দোকানে। দেশি টুপি ১০০ থেকে ২০০ টাকা ও বিদেশি টুপি ২০০-৫০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে বিদেশি টুপি থেকে দেশি টুপির চাহিদা বেশি।
সাত বছরের আইয়াজ বাবার সঙ্গে টুপি কিনতে এসেছে। নতুন টুপি না হলে ঈদের নামাজ পড়তে মসজিদে যাবে না সে। তার আবদার পূরণ করতে মার্কেটে এসেছেন বাবা আবুল হোসেন।