রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নোমায়ন আলীর মাইক্রোবাস আটকে দেন স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা। তাঁরা অভিযোগ তোলেন, ভোটারদের কিনতে গাড়িতে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন জামায়াতের নেতা। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে গাড়িটিতে তল্লাশি করে কিছু পায়নি। পরে নোমায়ন আলীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উপজেলা জামায়াতের আমির নোমায়ন আলীর বাড়ি বিয়ানাবোনা গ্রামে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে গোদাগাড়ীর আলীপুর গ্রামে তাঁর ভাড়া করা মাইক্রোবাসটি আটকে দেন স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা। মাইক্রোবাসের চাবি কেড়ে নেন তাঁরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যাওয়ার পর রাত ৩টার দিকে গাড়িটি ছাড়া হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ দীলিপ বলেন, ‘গভীর রাতে জামায়াত নেতা নোমায়ন কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে মাইক্রোবাসে চড়ে আলীপুর হিন্দুপাড়ায় ভোট কিনতে গিয়েছিলেন। আমাদের লোকজন দেখতে পেয়ে তাঁদের আটকায়। কিন্তু তখন কৌশলে তাঁরা টাকা সরিয়ে ফেলেন। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট এসে তাঁকে ছেড়ে দেয়।’
জামায়াত নেতা নোমায়ন আলী বলেন, ‘রাতে নির্বাচনী অফিসে কাজ শেষে আলীপুর গ্রামে আমাদের এক কর্মীকে বাড়ি নামিয়ে দিতে গিয়েছিলাম। তখন বিএনপির কর্মীরা গাড়ি অবরোধ করে জিজ্ঞেস করেন, এত রাতে কেন এসেছি। কারণ জানালেও তারা অপপ্রচার চালিয়েছে।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গিয়ে গাড়ি তল্লাশি করেছি। কোনো টাকা পাইনি। তাই নোমায়ন আলীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনের সঙ্গে তাঁর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। এ নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছে উত্তেজনা।