ফরিদপুর সদর উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে এক শিক্ষার্থীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। ছাত্রীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে বহিরাগত এক যুবক এই হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের খেপাখোলা এলাকায় নুরুল ইসলাম উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম শেখ সিয়াম। সে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
আহত শিক্ষার্থীকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটক যুবকের নাম আশিক খান (২৩)। তিনি পার্শ্ববর্তী মুন্সীডাঙ্গী এলাকার শেখ জিন্নাহর ছেলে।
বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামলাকারী আশিক খান স্থানীয়ভাবে বখাটে প্রকৃতির। তিনি নিয়মিতভাবে স্কুলটির ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। এর প্রতিবাদ করায় স্কুলটির অন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর ক্ষিপ্ত হন তিনি। আজ দুপুরে আশিক স্কুলটির ভেতরে ঢুকে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করতে থাকেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী সিয়ামকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। ঘটনার পর তাঁকে সহপাঠী ও শিক্ষকেরা ধরে পুলিশে সোপর্দ করে এবং আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বলেন, ‘হামলাকারী ওই যুবক ক্লাস চলাকালে স্কুলে প্রবেশ করে আমাদের এক ছাত্রকে মারধর করছিল। এর প্রতিবাদ করতে গিয়েই হামলার শিকার হয় সিয়াম। স্কুলের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা এবং তৎপরতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমি স্কুলটিতে গিয়ে হামলাকারী ওই বখাটে যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। স্কুলের শিক্ষক হাসান আলী বাদী হয়ে ওই হামলাকারী যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’