হোম > শিল্প-সাহিত্য

ছায়ানটে শিশুদের কলকাকলিতে পূর্ণ শরতের উৎসব

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ছায়ানটে শুক্রবার সকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শরতে আজ কোন অতিথি’ সম্মেলক গান ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে আয়োজনের উদ্বোধন হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

শিশুদের কলকাকলি, গান, নৃত্য ও উৎসবের আবহে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছায়ানটের দুই দিনব্যাপী শরৎ উৎসব শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শরতে আজ কোন অতিথি’ সম্মেলক গান ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে আয়োজনের উদ্বোধন হয়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, এক্সেল একাডেমি, নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয় ও ছায়ানটের শিক্ষার্থীরা ‘যোগ দে রে আজ সমান তানে’ শিরোনামের আয়োজনে অংশ নেয়।

উদ্বোধনী গান ও নৃত্যের পর পাঁচ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরিবেশনা করে। মঞ্চে একে একে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও অতুলপ্রসাদ সেনের গান, ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি।

নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিবেশনায় ছিল সম্মেলক নৃত্যগীত ‘আলোর অমল কমলখানি’, বৃন্দ আবৃত্তি ‘শরৎ’ ও ‘সবার আমি ছাত্র’। একক গানে সুদর্শনা অলকানন্দা কুণ্ডু পরিবেশন করে ‘ভোরের ঝিলের জলে’। মেহেরিন ফাতেমা পরিবেশন করে ‘তোমরা যা বলো তাই বলো’।

এক্সেল একাডেমির নিবেদনে ছিল সম্মেলক নৃত্যগীত ‘দেখো-দেখো, দেখো, শুকতারা আঁখি’। একক সংগীত পরিবেশন করে অরুণাভ দে ও ইপ্সিতা সিকদার।

সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করে ‘কোন্ খেপা শ্রাবণ ছুটে এল’। পার্থিব সাহা গেয়ে শোনায় ‘শিউলি ফুল, শিউলি ফুল, কেমন ভুল’। ইজমির মুস্তাফিজ আবৃত্তি করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শরৎ’—‘এসেছে শরৎ, হিমের পরশ’। পরে শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে আবৃত্তি করে কাজী নজরুল ইসলামের ‘কোন্ শরতে পূর্ণিমা-চাঁদ’।

সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করে ‘আজ প্রথম ফুলের পাব প্রসাদখানি’। একক কণ্ঠে সার্থক সাহা পরিবেশন করে ‘এসো শারদ প্রাতের পথিক’, বাঁধন কুণ্ডু ‘হৃদয়ে ছিলে জেগে’ এবং দিব্যময় দেশ ‘মেঘেরা দল বেঁধে যায়’।

ছায়ানটের পরিবেশনা শুরু হয় সমবেত সংগীত ও দলীয় নৃত্য ‘ওগো শেফালিবনের মনের কামনা’ দিয়ে। পরে অঙ্কিতা সরকার গেয়ে শোনায় ‘অমল ধবল পালে লেগেছে’, শতদ্রু সরকার ‘আমার রাত পোহালে’ এবং প্রেমা দেওয়ানগাজী ‘হে ক্ষণিকের অতিথি’। পার্থিব সাহা গেয়ে শোনায় ‘শিউলি ফুল, শিউলি ফুল’।

শিক্ষার্থীদের যৌথ কণ্ঠে ‘আজ ধানের ক্ষেতে’ সম্মেলক নৃত্যগীত এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শারদ আয়োজনের প্রথম দিনের সমাপ্তি হয়।

ছায়ানট জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য তুলে ধরতে রাজধানীতে এই দুই দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়েছে।

ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, “ষড়্ঋতুর দেশে ঋতুভিত্তিক বৈচিত্র্য রয়েছে। বিশেষ করে শরতের স্নিগ্ধতা, নীল আকাশে মেঘের ভেলা, সাদা কাশফুল ও শিউলি ফুল মিলিয়ে শরতের যে নিজস্ব রূপ, তা শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছে ছায়ানট।”

শনিবার সকালে সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শরতের অনুষ্ঠান হবে। সেখানে ছায়ানট ও সেন্ট গ্রেগরিসহ আরও কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।