হোম > বিশ্লেষণ

গাজায় আগ্রাসন যেভাবে মোদির ভারতকে ইসরায়েলঘনিষ্ঠ করে তুলল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

২০১৮ সালে নয়া দিল্লিতে এক সম্মেলনে মোদি ও নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা এবং নরওয়ে ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচকে তাদের দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। তিনি গাজায় ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধন এবং দখলকৃত পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে মত দিয়ে আসছেন।

কিন্তু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্মতরিচ এবং তাঁর কট্টর ডানপন্থী সহকর্মী ইতমার বেন-গভিরের বিরুদ্ধে ইইউজুড়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করে, ঠিক সে সময় স্মতরিচকে ভারতে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং একাধিক শহরে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হয়। নয়া দিল্লিতে তিনি এক বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। মুম্বাইতে তিনি স্টক এক্সচেঞ্জ পরিদর্শন করেন এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটে এক নতুন বিনিয়োগ হাব সফর করেন।

ইসরায়েল যখন গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধ চালাচ্ছিল—এমনকি স্মতরিচের ভারত সফরের দিনগুলোতেও বোমাবর্ষণ করে বহু মানুষকে হত্যা করা হচ্ছিল—ঠিক তখনই নয়া দিল্লি ইসরায়েলের সঙ্গে ব্যবসা বাড়াতে নজিরবিহীনভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ভারত বহু দশক ধরে ফিলিস্তিনের অন্যতম বিশ্বস্ত সমর্থক ছিল। অন্যদিকে ইউরোপ ছিল ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। তবে ২০১৪ সালে মোদি ও তাঁর হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের এই অবস্থানে বড় পরিবর্তন ঘটে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্মতরিচের এই সফর আরও একটি নাটকীয় বাস্তবতাকে সামনে এনেছে—যখন এমনকি ইউরোপও নেতানিয়াহুর সরকার থেকে দূরে সরে গেছে, ঠিক সেই সময়ে গাজায় এই গণহত্যামূলক যুদ্ধ ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে আরও গভীর ও ত্বরান্বিত করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোদি ইসরায়েল সফর করেন। এমন এক সময়ে তিনি সেখানে যান যখন গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে থাকা নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম একঘরে হয়ে পড়েছিলেন।

জেরুজালেমে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু মোদিকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘আপনি ইসরায়েলের একজন মহান বন্ধু। আপনি বন্ধুর চেয়েও বেশি—আপনি আমাদের ভাই।’

৭ অক্টোবরের হামলা যেভাবে পটপরিবর্তন করল

ইসরায়েলি হামলায় গত তিন বছরে অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২১ হাজার শিশু। এই সংখ্যা যুদ্ধের আগের গাজার প্রতি ৩০ জন মানুষের ১ জন, বা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। ঐতিহাসিকভাবে ভারত সর্বদা দাবি করে এসেছে, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ, মার্কিন-ইরান সংকট বা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত—যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র পথ হলো কূটনীতি ও আলোচনা। যুদ্ধ দিয়ে কোনো কিছুর সমাধান হয় না বলেই নয়া দিল্লি বিশ্বাস করত।

কিন্তু আল জাজিরার তদন্ত এবং অন্যান্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, গাজায় চলা এই গণহত্যামূলক যুদ্ধের মধ্যেই নয়া দিল্লি ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি করেছে। একই সঙ্গে মোদির আমলে ভারত হয়ে উঠেছে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই মোদি স্পষ্টভাবে সেই ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’র তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন যে তিনি ‘গভীরভাবে মর্মাহত।’

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোদি যখন ইসরায়েল সফর করেন, তখন তিনি ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার কথা স্মরণ করেন। ভারতের দাবি—পাকিস্তানিরা এই হামলা চালিয়েছিল। মোদি বলেন, ‘আপনাদের মতোই আমাদেরও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোনো দ্বিমুখী নীতি ছাড়াই জিরো টলারেন্সের একটি ধারাবাহিক ও আপসহীন নীতি রয়েছে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলকে একটি ‘আক্রান্ত দেশ’ হিসেবে উপস্থাপন করার বিষয়টি মোদিকে ভারতের সাধারণ মানুষের কাছে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার যুক্তি হিসেবে সাহায্য করেছে। নয়া দিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশীদ কিদওয়াই বলেন, বহু দশক ধরে মোদির দল বিজেপির অধিকাংশ রাজনীতি ‘ইসলামী বিস্তার বা ইসলামী সন্ত্রাসবাদকে ঘিরে ঘুরেছে।’ তিনি বলেন, ‘তাই (ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক) সাহায্য করে।’ মোদির ইসরায়েল নীতি এবং তাঁর অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করে কিদওয়াই বলেন, ‘এই সম্পর্ককে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিরই একটি সম্প্রসারিত রূপ হিসেবে দেখতে হবে।’

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভারতের হিন্দু ডানপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই জায়নবাদের মূল আদর্শকে সমর্থন করে আসছে। মোদির বিজেপির আদর্শগত ভিত্তি গড়ে উঠেছে ‘হিন্দুত্ব’বাদে দর্শনের ওপর, যা মূলতঃ ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে চা, যে রাষ্ট্রটি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা হিন্দুদের জন্য একটি স্বাভাবিক বাসভূমি বা নিজস্ব ভূমি হবে। এটি অনেকটা ইসরায়েলের নিজেদের ‘ইহুদিদের বাসভূমি’ হিসেবে দেখার দর্শনের মতোই।

৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে ভারতের পরিস্থিতি উল্লেখ করে কিদওয়াই বলেন, ‘ভারতে বিদ্যমান মুসলিমবিরোধী মনোভাব সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছে।’ অবশ্য এই মনোভাবের পাশাপাশি ‘নয়া দিল্লির একটি ব্যবহারিক হিসাব-নিকাশও রয়েছে, কারণ ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি পক্ষ।’

মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কূটনীতিক নবদীপ সুরি আল জাজিরাকে বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্কও ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের একটি মূল ভিত্তি, ‘বিশেষ করে ভারতীয় সমাজের একটি অংশের কাছে, যারা ইসরায়েলের নেওয়া কঠোর ও পেশিশক্তিনির্ভর নীতির প্রতি প্রবল শ্রদ্ধা পোষণ করে।’

ভারতের ডানপন্থী মহল থেকে একাধিকবার মোদির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তিনি ইসরায়েলের মতো কঠোর নীতি গ্রহণ করেন—যার মধ্যে রয়েছে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া কিংবা প্রতিবেশী পাকিস্তানে হামলা চালানো। সুরী উল্লেখ করেন, গাজায় চলমান যুদ্ধের আগেই ইসরায়েলের দিকে এই ঝোঁক শুরু হয়েছিল। এই সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির অধীনে যে সম্পর্কটি আগে গোপনে বা পর্দার আড়ালে ছিল, তা এখন অনেক বেশি প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।’

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরেকটি মূল স্তম্ভের দিকে ইঙ্গিত করে সুরি আল জাজিরাকে বলেন, ‘দিল্লিতে এটি স্বীকার করা হয়েছে যে ইসরায়েল একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা অংশীদার। নিরাপত্তার ধারণার ক্ষেত্রে উভয় দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে এক চমৎকার মিল রয়েছে।’

ভারতের নীতিগত অবস্থান নেওয়া উচিত

ইসরায়েলের নিকটতম কিছু ইউরোপীয় মিত্র দেশও গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধ এবং দখলকৃত পশ্চিম তীরে বেআইনি বসতি স্থাপনের সমালোচনার গণ্ডি পেরিয়ে কঠোর পদক্ষেপের দিকে এগিয়েছে। অন্তত ১১টি ইউরোপীয় দেশ এবং কানাডা অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে তৈরি পণ্যের ওপর বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। অনেকেই পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা চালানো বসতি স্থাপনকারী ও তাদের নেটওয়ার্কের ওপর, সেইসঙ্গে স্মতরিচ এবং বেন-গভীরের মতো মন্ত্রীদের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

অন্যদিকে, ভারত সামান্য বিরোধিতা বা উপদেশ দেওয়া ছাড়া কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া এড়িয়ে গেছে। কূটনৈতিকভাবে নয়া দিল্লি এখনও ‘দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান’ সমর্থন করে এবং অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ ও শান্তির আহ্বান জানিয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করা সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক সুরী বলেন, নয়া দিল্লির ‘এসব বিষয়ে আরও নীতিগত অবস্থান নিতে পারা উচিত।’ তবে নিজের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার আলোকে সুরী যোগ করেন, ‘ইসরায়েল ও ভারতের সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ে এতটাই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে যে, ভারতের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে একটি দ্বিধা কাজ করে।’

সুরী আল জাজিরাকে ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সেই দ্বিধা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফুটে ওঠে। বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সমালোচনা করতে অস্বীকৃতি জানানো; গাজায় নৃশংস শক্তি প্রয়োগের সমালোচনা না করা; এবং ইরানে হামলার সমালোচনা করতে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মের লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরতে অনিচ্ছা প্রকাশ করা।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষক কিদওয়াই বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর মতো ভারতের বর্তমান নেতাদের মধ্যে ‘সেই ধরনের গতিশীল চিন্তাভাবনার অভাব রয়েছে এবং তারা বরং অনেক বেশি গোঁড়া বা একগুঁয়ে।’

ভারতের পরিবর্তন এবং মোদির কৌশলগত হিসাব

গাজায় নেতানিয়াহুর ধ্বংসাত্মক ও প্রাণঘাতী হামলার নিন্দা করেছে হোয়াইট হাউসের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলে বিশাল অস্ত্রের চালানের অনুমোদন দেওয়া সত্ত্বেও অতীতে বৈরুতে বোমাবর্ষণ বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে কোনো কিছুই মোদির সঙ্গে নেতানিয়াহুর এই সখ্যতা কমাতে পারেনি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইসরায়েল/ফিলিস্তিন প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ম্যাক্স রোডেনবেক আল জাজিরাকে বলেছিলেন, প্রকৃতপক্ষে ট্রাম্পের ইরানে হামলার ঠিক আগে মোদির ফেব্রুয়ারি মাসের ইসরায়েল সফরটি ছিল ‘নেতানিয়াহুর প্রতি একটি ব্যক্তিগত অনুগ্রহের মতো, যা ইসরায়েলি নির্বাচনের প্রচারণার ঠিক মুখে বিশ্বমঞ্চে নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছিল।’

আগের দশকগুলোতে যেকোনো ভারতীয় নেতার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ ছিল কল্পনাতীত। ১৯৪৮ সালে ভারত ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনে বিরোধিতা করেছিল। ঔপনিবেশিকতা-বিরোধী ইতিহাসের কারণে নয়া দিল্লিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ককে একসময় বাঁকা চোখে দেখা হতো—যদিও অন্তত ১৯৭০-এর দশক থেকে উভয়ের মধ্যে গোপন সম্পর্ক ছিল।

১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জায়নবাদকে এক ধরনের বর্ণবাদ আখ্যা দিয়ে যে প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল, ভারত তা সমর্থন করেছিল। আরব বিশ্বের বাইরে ভারতই ছিল প্রথম দেশ যারা ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থাকে (পিএলও) স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং বিশ্বে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম সারির দেশগুলোর একটি ছিল। ১৯৯২ সালে ভারত ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপর থেকে সরকারগুলো ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে তুললেও, ২০১৬ সালে মোদিই প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করেন।

বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস—যারা স্বাধীনতার পর মোদির আগে বেশিরভাগ সময় ভারত শাসন করেছে—মনে করত যে ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা মুসলিম ভোটারদের কাছে টানতে সাহায্য করে (উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের পরই ভারতের স্থান যেখানে সবচেয়ে বেশি মুসলিম বসবাস করে)। অন্যদিকে, মোদির ‘সবার আগে হিন্দু’ রাজনীতি ভারতীয় মুসলিমদের আলাদা বা পর করে রাখার ওপর ভর করেই টিকে থাকে।

কিদওয়াই আল জাজিরাকে বলেন, ‘মোদির দল মনে করে যে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান থেকে তাদের পাওয়ার কিছুই নেই। তার বদলে মোদি চেষ্টা করেছেন ইসরায়েলে আক্রমণকে তথাকথিত “ইসলামী চরমপন্থা ও সন্ত্রাসী রাজত্ব”-এর সঙ্গে যুক্ত করতে এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে অবস্থান তৈরি করতে—আর এই ক্ষেত্রগুলোর মধ্যেই তাদের সমস্ত কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা লুকিয়ে রয়েছে।’