হোম > বিশ্লেষণ

বিশ্ববাজারে কেন সোনা-রুপার দাম কমছে, আরও কত কমবে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফাইল ছবি

বিশ্ববাজারে কয়েক দিন ধরে মূল্যবান ধাতু সোনা ও রুপার দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং রুপার দাম ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড (সুদ) বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই ধাতু দুটির চাহিদা কমেছে।

কেন কমছে দাম?

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক কারণের সংমিশ্রণে এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে:

১. শক্তিশালী মার্কিন ডলারের প্রভাব: বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার (যেমন—ইউরো, পাউন্ড বা ইয়েন) অধিকারীদের কাছে সোনা ও রুপা কেনা আগের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সোনা ডলারে কেনাবেচা হয় বলে ডলারের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই সোনার চাহিদা ও দাম কমে যায়।

২. বন্ড মার্কেটের আকর্ষণ বৃদ্ধি: যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বা লভ্যাংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোনা একটি নন-ইল্ডিং সম্পদ, অর্থাৎ এটি ধারণ করলে কোনো নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না। যখন বন্ডের সুদ বেড়ে যায়, তখন বড় বিনিয়োগকারীরা সোনা বিক্রি করে বন্ডের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন।

৩. মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও মূল্যস্ফীতির শঙ্কা: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের খবর দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো (ফেডারেল রিজার্ভ) সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ রাখতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সোনা ছেড়ে দিচ্ছেন।

৪. মুনাফা সংগ্রহের হিড়িক: গত কয়েক মাসে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বিনিয়োগকারীরা এখন তাদের মুনাফা ঘরে তুলতে চাচ্ছেন। প্রযুক্তিগত সূচকগুলো দেখাচ্ছিল যে বাজার ‘ওভারবট’ বা অতিরিক্ত ক্রয় পর্যায়ে চলে গেছে, যা এই ত্বরান্বিত বিক্রির অন্যতম কারণ।

সোনার দাম ৪৪৯৪ ডলারের নিচে নামলে কী হবে?

বর্তমানে বাজার পর্যবেক্ষকেরা দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল স্তরের দিকে নজর রাখছেন: সোনা প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৯৪ ডলার; রুপা প্রতি আউন্স ৬৮ ডলার।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সোনার দাম ৪ হাজার ৪৯৪ ডলারের সীমা ভেঙে নিচে নামে, তবে এটি একটি শক্তিশালী ‘সেল সিগন্যাল’ হিসেবে কাজ করবে এবং স্বল্প মেয়াদে আরও বড় পতন ঘটতে পারে। একইভাবে রুপার দাম ৬৮ ডলারের নিচে গেলে বিক্রির চাপ আরও তীব্র হবে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই পতন আসলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য পুনরায় বাজারে প্রবেশের একটি সুযোগ হতে পারে।

অন্যান্য ধাতুর ওপর প্রভাব

কেবল সোনা বা রুপা নয়, শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারেও মন্দাভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনে প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে নিচে নেমেছে। এটি নির্দেশ করে যে বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে ধাতব সম্পদ থেকে মূলধন সরিয়ে লিকুইড ক্যাশ বা বন্ডের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

আগামী দিনগুলোতে বাজারের দিক পরিবর্তন মূলত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে: যদি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ফেডারেল রিজার্ভ) সুদের হার কমানোর কোনো ইঙ্গিত দেয়, তবে সোনা ও রুপার দাম আবার লাফিয়ে বাড়তে পারে। ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্য বা ইউক্রেন সংকটের কোনো প্রশমন ঘটলে সোনার ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ আশ্রয়ের চাহিদা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষকেরা সাধারণ ও বড় উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীদের বর্তমান অস্থির বাজারে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, বর্তমান অস্থিরতায় একবারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ না করে ধাপে ধাপে বা নির্দিষ্ট বিরতিতে বিনিয়োগ করা নিরাপদ হতে পারে।

এ ছাড়া যারা নতুন করে বড় পজিশন নিতে চান, তাঁদের উচিত সোনার ৪ হাজার ৪৯৪ ডলারের সাপোর্ট লেভেলটি স্থায়ী হয় কি না, তা দেখার জন্য কয়েক দিন অপেক্ষা করা। সেই সঙ্গে কেবল মূল্যবান ধাতুর ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য সম্পদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রমবর্ধমান সোনার মজুত এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি দামকে পুনরায় স্থিতিশীল করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সরবরাহ সংকট, বিশেষ করে রুপার ক্ষেত্রে, ভবিষ্যতে দাম পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে।

স্যামসন অপশন: ইসরায়েলের পরমাণু ডকট্রিন কেন বিশ্বের জন্য হুমকি

ইরান ফাঁদে পা দিয়ে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ডোবাচ্ছেন ট্রাম্প

পুরো ইউরোপ কি এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে

নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেলথ মিথ ভেঙে দিল ইরান, যা বলছেন চীনা সমরবিদ

ইরানকে ‘শায়েস্তা’ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁধে সওয়ার হতে চায় অক্ষম সৌদি-আমিরাত

তেলের যুদ্ধে জিতে যাচ্ছে ইরান: জাপানের সঙ্গে আলোচনায় তেহরান, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল

ইরান আক্রমণ: ৫০ বছর কোনো প্রেসিডেন্ট সাহস করেননি, ট্রাম্প কেন ঝুঁকি নিলেন

জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলায় উন্মুক্ত ‘প্যান্ডোরার বাক্স’, উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এখন তেহরানের হাতে

লক্ষ্য অর্জনে বারবার ব্যর্থ, তবুও কেন গুপ্তহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল

ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন নয়: ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রটি অন্য কিছু