হোম > বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের মতো সরকার পতনে বিজেপি কেন সতর্ক করছে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

ভারতে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের আলোচনা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন এবং দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

বিজেপির অভিযোগ, বিরোধীদের আন্দোলনের লক্ষ্য শুধু নির্বাচনী সংস্কার বা নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা নয়, তরুণদের ব্যবহার করে দেশে অরাজকতা তৈরি এবং বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকার পতনের চেষ্টা চলছে। তবে কংগ্রেস বলছে, তারা নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তনের কথা বলছে। অন্যদিকে, আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) বলছে, তাদের লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন নয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে একজন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগই তাদের মূল দাবি।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরার দুটি বক্তব্য। ভূষণ প্রকাশ্যে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর পক্ষে কথা বলার পর বিজেপি আরও জোরালোভাবে বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। এর আগে নেহা বোরার বাংলাদেশে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের প্রশংসাও বিজেপির আক্রমণের লক্ষ্য হয়।


প্রশান্ত ভূষণ কী বলেছিলেন

বিতর্কের সূত্রপাত হয় গতকাল (১৫ অক্টোবর) নয়াদিল্লির প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে। সেখানে প্রশান্ত ভূষণের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আইসা সভাপতি নেহা বোরা, রাজ্যসভা সদস্য কপিল সিবাল, অভিনেতা প্রকাশ রাজসহ কয়েকজন আন্দোলনকর্মী।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়ন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি নিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সেখানে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, সরকার বারবার বলছে এটি বিরোধীদের ‘রেজিম চেঞ্জ’ অভিযান। তাঁর দাবি, তাঁরা শুধু দেশের নির্বাচনী গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন করছেন। তবে পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে সরকার পরিবর্তন ঘটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভূষণের বক্তব্য ছিল, ‘আমরা সবাই রেজিম চেঞ্জ চাই। এতে ভুল কী? রেজিম চেঞ্জ প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার।’ তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন চাওয়া সাংবিধানিক অধিকারের অংশ এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে অসন্তোষ তৈরি করা কোনো অপরাধ নয়।

এই বক্তব্যই বিজেপিকে বিরোধীদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ করে দেয়। দলটির নেতারা বলতে শুরু করেন, এসআইআর বা নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের দাবির আড়ালে আরও বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য রয়েছে।

বিতর্কে কীভাবে এল বাংলাদেশ

প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যের আগেই ভারতের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের তুলনা শুরু হয়েছিল। গত ১৪ অক্টোবর আইসা সভাপতি নেহা বোরা বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের জলাই আন্দোলনের প্রশংসা করেন।

নেহা বলেন, ভারতে যে জেন-জি আন্দোলন হচ্ছে, সেটি বাংলাদেশে প্রথম শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশই এই আন্দোলনের পথ দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নেহা বলেন, ‘আমরা জানি, ভারতে যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, সেটি প্রথম বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল। পথ দেখানোর জন্য আপনাদের অভিনন্দন।’ তিনি আরও বলেন, তাঁরা বাংলাদেশের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন এবং সেখানকার আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা ও শিক্ষা নিচ্ছেন।

নেহা বোরার এই বক্তব্য বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশকে অনুসরণ করার কথা বলা আসলে ভারতে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি।

বিজেপি নেহা বোরার বক্তব্যকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও বিরোধীদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করে।

জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিজেপির অভিযোগ

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে। পরে পুলিশের দমন-পীড়ন, গ্রেপ্তার এবং ইন্টারনেট বন্ধের মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়।

৫ আগস্ট আন্দোলনকারীরা ঢাকার দিকে অগ্রসর হলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে ভারতে চলে যান। এর মধ্য দিয়ে তাঁর ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

নেহা বোরা বাংলাদেশের ওই আন্দোলনকে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিয়ে সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিজেপি অবশ্য তাঁর বক্তব্যকে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পদ্ধতির প্রতি সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফোর্ড ফাউন্ডেশন ও সিআইএকে নিয়েও রেজিম চেঞ্জের কথিত পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার নানা অভিযোগ ছড়িয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কিন্তু বিজেপি প্রশান্ত ভূষণ ও নেহা বোরার বক্তব্যকে বিচ্ছিন্ন মন্তব্য হিসেবে দেখছে না। দলটির দাবি, কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’ প্রচার, সিজেপির আন্দোলন, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর তৎপরতা এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ—সবকিছু মিলিয়ে সরকার পতনে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।

বিজেপির অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা দুর্বল করা হচ্ছে। পাশাপাশি দিল্লির রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে তুলনীয়।

গতকাল বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেন, নেহা বোরার বক্তব্য রাহুল গান্ধী ও তাঁর রাজনৈতিক সহযোগীদের চিন্তার প্রতিফলন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, এটি ‘রেজিম চেঞ্জের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি’ এবং রাহুল গান্ধী ও তাঁর সহযোগীরা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

পরদিন অর্থাৎ আজ শুক্রবার লক্ষ্ণৌয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিজেপির আক্রমণ আরও তীব্র করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ও তাদের সহযোগীরা তরুণ বিক্ষোভকারীদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।

রাজনাথ সিং বলেন, ‘দেশের তরুণদের অরাজকতার রাজনীতিতে ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রসঙ্গ এবং ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর উল্লেখ এসআইআর বিতর্কের বাইরে আরও বড় কোনো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

রাজনাথ বলেন, ‘ভবিষ্যৎ ভারতের দায়িত্ব সবার। সংঘাত নয়, আমাদের সংলাপের মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠনের পথ বেছে নিতে হবে।’

বিজেপির এই প্রচারে যোগ দিয়েছেন দলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবিশ বিক্ষোভকারীদের আক্রমণ করে বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত তাদের লক্ষ্য রেজিম চেঞ্জ।’ তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের উসকে দেওয়া, জাত ও ভাষার ভিত্তিতে বিভাজন তৈরি এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চলছে। আন্দোলনের আড়ালে অরাজকতা তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তও বিরোধীদের বিরুদ্ধে ‘রেজিম চেঞ্জের এজেন্ডা’ অনুসরণের অভিযোগ তোলেন। তাঁর প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিবর্তন কি নির্বাচনের মাধ্যমে হবে, নাকি অসাংবিধানিক আন্দোলনের মাধ্যমে? তিনি বলেন, ভারতের জনগণ ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করে, বলপ্রয়োগ বা সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে নয়।

বিজেপির সংসদ সদস্য সম্বিত পাত্র বলেন, প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যে এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়েছে। আন্দোলনটি এসআইআর বা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়, বরং রাহুল গান্ধী ও তাঁর সহযোগীদের লক্ষ্য ক্ষমতার পরিবর্তন।

রাজ্যসভা সদস্য বিনোদ তাওড়েও অভিযোগ করেন, ‘রেজিম চেঞ্জ’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে কংগ্রেস ও বিরোধীদের আন্দোলন শুধু ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নয়। আসলে দেশে ‘অরাজকতা’ তৈরি করে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র চলছে।

কংগ্রেসের পাল্টা বক্তব্য

বিজেপির অভিযোগের জবাবে কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা বলেন, আমরা নির্বাচনের মাধ্যমেই বিজেপিকে পরাজিত করতে চাই।

ব্যঙ্গ করে তিনি রাজনাথ সিংকে ‘শার্লক হোমস’ বলেন। খেরার বক্তব্য, বিরোধীরা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করতে চায়—এটি কোনো গোপন পরিকল্পনা নয়।

১৯৭৭ সালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, জরুরি অবস্থার পর ওই বছর কি সরকার পরিবর্তন হয়নি? খেরা বলেন, ‘গণতন্ত্রে রেজিম চেঞ্জ কীভাবে হয়? নির্বাচনের মাধ্যমে। বিরোধীদের উদ্দেশ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করা—আর কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে?’

অর্থাৎ বিজেপি যেখানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ শব্দটিকে রাজপথের আন্দোলন ও বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছে, কংগ্রেস সেখানে এটিকে স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।


দূরত্ব বজায় রাখছে সিজেপি

তবে এই বিতর্কে সিজেপির অবস্থান একটু ভিন্ন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, তাঁদের লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন নয়। তাঁদের দাবি জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে একজন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা।

সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আমরা বলছি না যে, আমরা রেজিম চেঞ্জ চাই। আমরা শুধু বলছি, জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে একজন স্বাধীন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হোক। এতে কি কোনো অপরাধ হয়েছে?’

অর্থাৎ কংগ্রেস ও নেহা বোরার মতো ব্যক্তিদের বক্তব্যে সমর্থন থাকলেও সিজেপি নিজেদের আন্দোলনকে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন হিসেবে দেখছে না।

বিতর্ক ‘রেজিম চেঞ্জ’ শব্দটি নিয়ে

‘রেজিম চেঞ্জ’ বলতে সাধারণভাবে কোনো সরকার বা রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনকে বোঝানো হয়। শব্দটি কখনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তনের অর্থেও ব্যবহৃত হয়। তবে কোনো দেশে সাংবিধানিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরকার পরিবর্তন আর চাপ, বলপ্রয়োগ বা সহিংসতার মাধ্যমে সরকার উৎখাত—দুটি বিষয় এক নয়।

ভারতের সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। কংগ্রেসও সেই পথের কথাই বলছে। অন্যদিকে প্রশান্ত ভূষণ ‘রেজিম চেঞ্জ’কে নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে বিজেপি এই শব্দের ব্যবহারকে দিল্লির চলমান বিক্ষোভ ও বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছে। এর ফলে মূলত এসআইআর ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

এসআইআর ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংঘাত এখন আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রূপ নিয়েছে। নেহা বোরার বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এবং প্রশান্ত ভূষণের ‘রেজিম চেঞ্জ’ মন্তব্য বিজেপিকে কংগ্রেস ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে আরও জোরালো রাজনৈতিক প্রচারের সুযোগ দিয়েছে।

বিজেপি এসব বক্তব্যকে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতনের সঙ্গে তুলনা করে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ তুলছে। কংগ্রেস বলছে, তাদের লক্ষ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন। আর সিজেপি নিজেদের দাবি সীমিত রেখেছে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর দাবিতে।

ফলে ‘বাংলাদেশের মতো সরকার পতন’ আদৌ কোনো সমন্বিত রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ কি না—তা নিয়ে বিজেপি ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, এসআইআর ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন ভারতে ক্ষমতার লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।


ইন্ডিয়া টুডে থেকে সংক্ষেপে অনূদিত

ইয়েমেনের তাইজ দখলের লড়াই কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

বিপুল সামরিক ব্যয় সত্ত্বেও কেন হুতিদের সামনে নাকাল সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র কেন দূরে

৯৬% মুসলিমের দেশ আজারবাইজানে কেন বিদ্যালয়ে হিজাবে নিষেধাজ্ঞা

নেহা বোরার সংগঠন আইসা কী, তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যইবা কী

গাজায় আগ্রাসন যেভাবে মোদির ভারতকে ইসরায়েলঘনিষ্ঠ করে তুলল

ইসরায়েলি দখল-গণহত্যার বিপরীতে মৌলিক প্রশ্ন—গাজা শাসন করবে কে

গাজায় গণহত্যা যেভাবে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে টেনে এনেছে নিরীহ ব্রিটিশদের

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও ৫ কারণে ভারতের শেয়ারবাজার গাড্ডায়

চীনা আমদানির বিপজ্জনক ফাঁদে ভারত, উদ্ধারে যে পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

সেন্সরে সালমানের ‘মাতৃভূমি’: চীনের মান ভাঙাতে নতুন করে শুটিং, বদলাতে হলো নামও